সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ॥ পুলিশের এসআই’র মামলায় অতিষ্ঠ জ্যোৎস্না

পুলিশের এক এসআই’র শারীরিক নির্যাতনে ও তার দায়ের করা মামলায় সুনামগঞ্জের ছাতকে বিপাকে পড়েছে একটি পরিবার। পরিবারের দু’বোনের মধ্যে একজনের সংসার ভেঙ্গে গেছে, অন্যজনের দেখা দিয়েছে অশান্তি।
গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা অভিযোগ করেন ছাতক পৌরশহরের বাশখলা গ্রামের বাসিন্দা তালেব আলীর মেয়ে মোছাম্মৎ জ্যোৎস্না বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ছাতক থানায় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসআই মো. আজিজুল ইসলাম চৌধুরী (বিপি ৮১০৬১১৬২৭৭) এর কুনজরে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়ে স্বামীর সংসার হারিয়ে বর্তমানে ৬টি মামলা মাথায় নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। এসআই আজিজুল ইসলাম নিজে এবং তার লোকদের দায়ের করা এসব মামলায় তাকে ছাড়াও তার বৃদ্ধ পিতা এবং স্বামীর ঘরে থাকা বোনকে আসামি করেছে। মিথ্যা এসব মামলায় তার বোনের সুখের সংসারও এখন ভাঙ্গার উপক্রম হয়েছে।
জ্যোৎস্না বেগম বলেন, ২০০৮ সালে তাদের গ্রামে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তার পিতা তালেব আলী বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে গ্রামের সমছু মিয়া ফকির বাদী হয়ে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেন। তখন ছাতক থানায় কর্মরত এসআই আজিজুল ইসলাম চৌধুরী মামলা দুটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন। এ সময় তিনি তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মামলার সুবাধে এসআই আজিজ তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা করায় কুদৃষ্টি পড়ে তার উপর। মামলায় তাদের পক্ষে রিপোর্ট দিবে বলে লোভ দেখিয়ে এবং তার পিতা আসামি হওয়ায় বাড়িতে না থাকায় প্রায়ই রাত-বিরাতে তাদের বাড়িতে চলে যেত আজিজ। এক সময় তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যান তিনি। তার ঘনঘন যাওয়া আসা এবং ফোনে কথা বলায় এক সময় তার স্বামী মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে তার স্বামীর সাথে মনমালিন্য সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে তিনি তাকে ফেলে চলে যান। এ সময় এসআই আজিজ তাকে বিয়ে করবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করায়। মামলার পর তার স্বামী তাকে ডিভোর্স দেন।
জ্যোৎ¯œা বলেন, স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার পরও এসআই আজিজ তার সাথে কিছুদিন সম্পর্ক রাখে। এরপর আজিজ কুলাউড়া থানায় চলে যায়। তখন গাড়ি চালক বাহার উদ্দিনকে দিয়ে ছাতক থেকে তাকে কুলাউড়ায় নিয়ে প্রায়ই সেখানে রাত্রিযাপন করতেন। তখন তিনি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে বিয়ে করব বলে সময় চাইতেন আজিজ। এ রকম কিছুদিন চলার পর আজিজের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। তিনি ছাতকে ফিরে এসে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু আজিজ তাকে এড়িয়ে চলে এবং গালিগালাজ করে। এরপর নিরুপায় হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সুনামগঞ্জে তার বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আজিজ দুইমাস জেল খাটে। বর্তমানে জামিন নিয়ে সিলেট পুলিশ লাইনে ক্লোজড হিসেবে রয়েছে।
তিনি বলেন, জামিনে বের হওয়ার পর আজিজ নিজে বাদী হয়ে এবং তার লোকদের দিয়ে হত্যা মামলাসহ তাকে, তার পিতাকে এবং স্বামীর ঘরে থাকা বোনের বিরুদ্ধে একে একে ছয়টি মামলা দায়ের করে। এদিকে, ছাতক থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (নং ২২/২০১৬) দায়ের করিয়েছেন এসআই আজিজুল ইসলাম। এ মামলায় আজিজ ছাতক থাকাকালীন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে জমি নিয়ে বিরোধের সংঘর্ষের প্রতিপক্ষকে বাদী বানিয়েছে। পাশাপাশি আজিজের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের এ মামলায় আসামি করে গ্রেফতার করে কারাগারে দেয়ায় তার মামলার সাক্ষী গ্রহণে বিচ্যুতি ঘটছে। ফলে তার দায়ের করা মামলা থেকে এসআই আজিজ পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন জেছনা।
জ্যোৎ¯œা বলেন, এসআই আজিজের প্রতারণার শিকার হয়ে তার জীবন নষ্ট হওয়ার পর মিথ্যা এসব মামলায় তার বৃদ্ধ পিতা এবং স্বামীর ঘরে থাকা আমার বোনের সংসার ভাঙনের উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে এসআই আজিজের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন এ সময় উপস্থিত ছিলেন জ্যোৎস্না বেগমের মা রবি বেগম। বিজ্ঞপ্তি