ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু

সিলেট অঞ্চলে অপচিকিৎসা ও ভুল প্রেসক্রিপশনে মৃত্যুর সংখ্যা কম নয়। প্রতিদিনই ২/১টি মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা বা চিকিৎসালয়ের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। চিকিৎসক ও চিকিৎসালয় সাধারণ মানুষের কাছে আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোগে আক্রান্ত জনসাধারণ সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের দারস্থ হয়ে থাকে। কিন্তু নামী-দামি চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপনায় অপ ও ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ঘটে। যা রোগীসহ সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলে।
সরকার যতই চিকিৎসা সেবা প্রদানে সচেষ্ট হচ্ছে। ততই চিকিৎসকরা দায়সারা ভাব দেখাচ্ছেন। নিজের দায় দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত হচ্ছেন। সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকরা জনগণের টাকায় বেতন ও সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও প্রকৃত দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। যা লক্ষণীয়।
গত ১০ ফেব্র“য়ারী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গেল। মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ১০ শিশুসহ ৩২ জন রোগীর মৃত্যু ঘটলো। যা নিয়ে সিলেট অঞ্চলসহ দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিহতদের পক্ষ থেকে শোক হচ্ছে। চিকিৎসকদের খামখেয়ালীপনা ছাড়াও দায়িত্বহীনতার ফলে একসাথে এত মৃত্যু এর আগে এভাবে সিলেট অঞ্চলে ঘটেনি। এ জন্য দায়ী কে?
ওসমানী হাসপাতালে ১০ শিশুসহ ৩২ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দুটো কমিটি গঠনের কথা বললেও বাস্তবে কি কোন তদন্ত হবে না সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার অপকৌশল মাত্র। ইতিমধ্যে সিলেটের সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ছাড়াও অসংখ্য ক্লিনিকগুলোতে অপ ও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নামে শুধু জন আশ্বাস মাত্র। কোন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিচার হয়নি। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুদের স্বজনরা সুবিচার পায়নি।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা আর খাম-খেয়ালীপনার দায়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা কম নয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক ঝামেলা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্কশ মেজাজী ভাব সর্বদা পরিলক্ষিত হয়। দিনের বেলা চিকিৎসকরা ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাথে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাতের বেলা চিকিৎসক বিহীন হাসপাতালগুলোতে রোগীদের আর্তচিৎকার দিলেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া মুসকিল হয়ে পড়ে।
সরকার যতই ঢাক-ঢোল বাজিয়ে চিকিৎসা দেয়ার জন্য উন্নয়নের কথা বলেন না কেন, বাস্তবে অনেক গরমিল রয়েছে। চিকিৎসকদের অতি লোভের কাছে রোগীরা চিকিৎসা পেতে ব্যর্থ। রোগ থেকে মুক্তি পেতে সহায়-সম্বল বিক্রি করে ভুল চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের দ্রুত বিচারের কাঠগাড়ায় আনার বিকল্প নেই।