আর কত মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব

জাতি আর কত মৃত্যু ও প    ঙ্গুত্বের শিকার হবে। জাতি এত মৃত্যু বহন করবে কীভাবে। গত কয়েক বছরের সহিংসতার শিকার মানুষের দিন কাটছে চরম যন্ত্রণায়। বিভীষিকাময় জীবন নিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। বার্ণ হাসপাতালগুলোতে অগ্নিদগ্ধের মানুষের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। এ সব দুর্বৃত্তপনা সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিরোধীদলের ডাকা অবরোধ-হরতালে বিচ্ছিন্নভাবে কতিপয় দুর্বৃত্তরা চলন্ত যানবাহনে গান পাউডার, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে চলেছে। যা কোন বিবেকবান ব্যক্তি মেনে নিতে পারে না। এ সব হত্যাকান্ডের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালগুলোর বার্ণ ইউনিটগুলোর ধারণ ক্ষমতা কম থাকায় অগ্নিদ্বগ্ধ মানুষের সেবা প্রদানে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন।
দেশে অব্যাহত অবরোধ-হরতালে গান পাউডার, পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ও সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ হতাহতের মধ্যে ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী ও শিশুসহ যানবাহনের চালক ও হেলপার রয়েছেন। কর্মসূচীর নামে এসব সাধারণ মানুষের বলি হওয়ার কথা না।
গত ৫ জানুয়ারী থেকে চলমান অবরোধ হরতাল আহবান করে অবরোধ-হরতাল আহবানকারীরা মাঠে না থাকলেও কতিপয় দুর্বৃত্তরা সহিংসতা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। যা সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী কর্মকান্ড। এ হিংসাত্মক কর্মকান্ড রুখতে সকল স্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এলাকা ভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে বিবেকের কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে। এ পর্যন্ত সহিংসতার শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষসহ ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী, অসংখ্য শিশুরা। অবরোধ-হরতালের ফলে সহিংসতায় শিকার হয়েছেন শুধু পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে ৫১ জন, সংঘর্ষে ১৩ জন অন্যান্য ভাবে ২১ জন, যানবাহনে আগুন ও ভাংচুর হয়েছে ৯৮৯টি। রেলে ১১ দফায় নাশকতা চালায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে আগুনে পোড়া ১২৩ জনের আহাজারি কে দেখে ?
অব্যাহত অবরোধ-হরতালের ফলে ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাংলা বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও বাকী বিষয়গুলোর পরীক্ষা অনিশ্চিয়তার মধ্যে। এ বিষয়গুলোর পরীক্ষা যদিও শুধু শনিবারে অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা থাকলেও পরীক্ষার্থীদের তীব্র উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটাতে হচ্ছে।
বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের মতে বিরোধী দলীয় নেত্রীর নিরাপত্তার জন্য ঢাকার গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। অথচ দেশের প্রায় ১৬/১৭ কোটি মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের ১৫ লাখ শিশু কিশোর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জীবন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া কতটুকু যুক্তিসংগত। এতে দেশ প্রেম ও মানব প্রেমের আসল রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
সত্যি কথা দেশের ১৬ কোটি মানুষ ও ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী এ দেশের সন্তান। তাদেরকে আর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে না মেরে অবরোধ-হরতাল বন্ধ করে দেশবাসীর কল্যাণ এগিয়ে আসুন। মানুষের সার্বিক কল্যাণেই আপনার ভবিষ্যৎ জীবন উজ্জ্বল হবে।