রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যার প্রতিবাদে কানাইঘাটে তৌহিদী জনতার গণমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান কানাইঘাট দারুল উলূম মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস লক্ষ্মীপুরীর আহ্বানে কানাইঘাটের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ডাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন এবং তাদের বসত বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ এবং জন্মস্থান থেকে বিতাড়িত করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কানাইঘাটে স্মরণকালের বৃহত্তম প্রতিবাদী বিক্ষোভ গণমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আল্লামা লক্ষ্মীপুরীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা বন্ধের দাবিতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে শত শত আবাল, বৃদ্ধ বণিতা প্রতিবাদী গণমিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য দারুল উলূম মাদ্রাসায় সকাল থেকে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ২টায় সেখান থেকে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে মিয়ানমারের সামরিকবাহিনী, শাসকগোষ্ঠী এবং বৌদ্ধ ভিক্ষু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্লে-কার্ড বহন ও গগণবিরোধী শ্লোগানের  মাধ্যমে গণমিছিলটি কানাইঘাট বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উত্তর বাজারে বাস স্ট্যান্ডে এসে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস লক্ষ্মীপুরীর সভাপতিত্বে এবং বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ক্বারী মাওঃ হারুনুর রশিদ চতুলীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব আল্লামা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী, রাজনীতিবিদ শিল্পপতি আব্দুল মুমিন চৌধুরী, কানাইঘাট পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ আবুল হোসেন চতুলী, বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খোকন, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, মাওঃ আব্দুল কাদির, মাওঃ আব্দুল মুমিন, মাওঃ ইসমাইল দুর্লভপুরী, মাওঃ শিহাব উদ্দিন, মাওঃ জমিল আহমদ, মাওঃ এবাদুর রহমান, মাওঃ হা. জালাল উদ্দিন, মাওঃ হা. নজির আহমদ, যুবনেতা মাসুক আহমদ, মাওঃ বদরুল ইসলাম আল-ফারুক, ছাত্রনেতা ইমাদ উদ্দিন লাহিন, আসাদ আহমদ, হারিছ উদ্দিন, জুনেদ শামসী, রায়হান উদ্দিন, মাওঃ এবাদুর রহমান, হা. গিয়াস উদ্দিন, হাজী জসিম উদ্দিন, মাওঃ সাদ উদ্দিন, শফিকুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ সোলেমান, সুহেল তালুকদার, হা. মারুফ আহমদ, গোলাম কিবরিয়া, হা. ইয়াহিয়া, মাওঃ বদরুল হাসান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলমানদের উপর যেভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছে তা বিশ^ সভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্ক জনক অধ্যায় রচিত হয়েছে। বিশে^র কোথাও এ ধরনের নিষ্ঠুর নির্যাতন, নিপীড়নের ঘটনা আজ পর্যন্ত ঘটেনি। রোহিঙ্গাদের উপর বর্বোরুচিত ন্যাক্কার জনক দমন নিপীড়ন, পৈশাচিক কায়দায় নৃশংস গণহত্যা, ধর্ষণ, শিশুদের পুড়িয়ে হত্যার পর উল্লাস ও হাজার হাজার বাড়ি ঘর ও শত শত গ্রামের আগুন জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করার মিশন অব্যাহত থাকলেও অদ্যবধি পর্যন্ত জাতিসংঘ, বিশ^মোড়ল শক্তি মিয়ানমারের উপর আর্ন্তজাতিক হস্তক্ষেপ না করায় এ ধরনের পৈশাচিক ঘটনা সেখানে সংঘটিত করা হচ্ছে। অবিলম্বে এ দমন নিপীড়ন বন্ধ না হলে বাংলার মুক্তিকামী মানুষ যেভাবে ১৯৭১ সালে এদেশকে স্বাধীন করেছিল, প্রয়োজনে আবারো সবাই একত্রিত হয়ে রাখাইন রাজ্যেকে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্রে পরিণত করে সেখানকার মুসলমানদের রক্ষা করা হবে। রোহিঙ্গাদের মানবিক দৃষ্টিকোন বিবেচনা করে বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোরদাবী জানানো হয় প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে। সমাবেশে মায়ানমারের পুতুল সরকার প্রধান অং সাং সূচীর তথা কথিত শান্তি নোবেল ফিরিয়ে নেয়া এবং রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে তার বিচারের দাবী জানান।