গোলাপগঞ্জে এক সপ্তাহে ৩ হত্যাকান্ড, তরুণীসহ আটক ৭

গোলাপগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
গোলাপগঞ্জে এক সপ্তাহে দুই গৃহবধূ ও এক মাদ্রাসা ছাত্রসহ তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে। আর এসব ঘটনায় তরুণীসহ ৭জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত ১ সেপ্টেম্বর ঈদুল আযহার আগের দিন রাতে খুন হন গোলাপগঞ্জ ফুলবাড়ী আজিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র লক্ষ্মীপাশা কোনাচর গ্রামের সুন্দর আলীর পুত্র নূরুল আলম (১৭)। ২ সেপ্টেম্বর ঈদের দিন শনিবার নিজ স্বামীর হাতে খুন হন উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউপির নিমাদল গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী এবং উপজেলার সাহেব বাজার চাঁনপুর গ্রামের মঈনুদ্দিনের মেয়ে পারভীন বেগম (২০)। ১০ সেপ্টেম্বর রবিবার সকালে নিজ স্বামীর হাতে রহস্যজনক ভাবে খুন হন উপজেলার বুধবারীবাজার ইউপির বাণীগ্রাম গ্রামের জাহেদ আহমদের স্ত্রী ও জকিগঞ্জ পৌরসভার মাইজকান্দি গ্রামের মৃত পাকি মিয়ার মেয়ে রাবিয়া বেগম (৩২)। নিহত মাদ্রাসা ছাত্র নূরুল আলম হত্যার প্রতিবাদে দেশ বিদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালনও করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ বছরের তরুণীসহ ৬ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রথমে আটক করা হয় কোনাচর দীঘিরপার গ্রামের বখাটে কাশেম আহমদ (৩০)কে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে থানায় রিমান্ডে আনা হলে সে অন্যান্য আসামীদের নাম প্রকাশ করে। রবিবার ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তরুণীসহ ৬জনকে আটক করে থানা পুলিশ। তারা হলেন-ফুলবাড়ী ইউপির ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল মন্নানের মেয়ে লিমা বেগম (১৬),  ফুলবাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে শিপলু আহমদ (২৫) ও বাবুল আহমদ (২৪), ফুলবাড়ী ইউপির মিরাপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে লুৎফুর রহমান (৩২) ও একই ইউপির টিকরপাড়া গ্রামের মোর্শেদ আহমদ (২৬) ও বাঘা ইউপির বাঘা দক্ষিণ গ্রামের মাতাব আহমদের ছেলে অপু আহমদ (২২)। ঈদের আগের দিন রাতে খুনিরা তাকে হত্যা করে ধান ক্ষেতে ফেলে যায়। ঈদেরদিন মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করে বাড়ী ফেরার পথে নিহত নূরুল আলমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।  ২ সেপ্টেম্বর ঈদের দিন শনিবার রহস্যজনক ভাবে খুন হন উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউপির নিমাদল গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী এবং উপজেলার সাহেব বাজার চাঁনপুর গ্রামের মঈনুদ্দিনের মেয়ে পারভীন বেগম (২০)। ঘাতক স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ খাটে শুইয়ে রেখে গলায় একটি কাপড় পেঁচিয়ে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সে জানায় তার স্ত্রী ফ্যানের সাথে কাপড় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা বাঁচানোর জন্য তার লাশ নামিয়েছি। তার কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে। থানায় অনেক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। প্রায় তিনমাস পূর্বে আব্দুল কুদ্দুসের সাথে বিয়ে হয় নিহত পারভীন বেগমের। ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে রহস্যজনক ভাবে খুন হন গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারীবাজার ইউপির বাণীগ্রাম গ্রামের জাহেদ আহমদের স্ত্রী ও জকিগঞ্জ পৌরসভার মাইজকান্দি গ্রামের মৃত পাকি মিয়ার মেয়ে রাবিয়া বেগম (৩২)।