কোরবানীর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সতর্কতা

আগামী ২ সেপ্টেম্বর পালিত হবে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পশুর হাট বসেছে। এসব হাটে পশু আসতে শুরু করেছে। বহু উৎসাহী ক্রেতা এসব হাটে গিয়ে কোরবানির পশু দেখে আসছেন। এবার নানা পথে ভারতীয় গরু দেশে আসায় হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে কেনাবেচা এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি। স্থানীয়ভাবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হাসিল নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এতে কোরবানির পশু কেনার ব্যাপারে ভোগান্তি অনেকটা কমবে বলে আশা করা যায়। বেশিরভাগ হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ভেটেরিনারি টিম সদাতৎপর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। রয়েছে মোবাইল ব্যাকিং ব্যবস্থাও। কোন কোন হাটে সিসি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্রসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। চক্রটি হাটে জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারের হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ যন্ত্র থাকলেও এই চক্রটি যেন হাটে ঢুকতে না পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমাদের ঈদ-অর্থনীতির অন্যতম দিক হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। বাংলাদেশে চামড়া শিল্প প্রসারের অন্যতম কারণ একসঙ্গে প্রায় কোটির মতো পশু কোরবানি দেয়া হয়। এই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে দেশে বিশাল চামড়া শিল্প গড়ে উঠেছে। দেশে প্রায় পাঁচ লাখ ২২ হাজার খামার রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারও কোরবানিকে ঘিরে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ গরু। রয়েছে ভেড়া ও ছাগল। কোরবানি ঘিরে বিপুল পশুর চাহিদা মূলত প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে জোগান দেয়া হতো।
কোরবানির এই পশু সঙ্কটের মধ্যে আমাদের দেশে গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল পালন বেড়ে যায়, যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। কোরবানির পশু বিক্রি করে খামারিরা প্রতি বছর বড় ধরনের আয় করেন। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য পশু পালন করেন। সারা বছর পশু পালন করার একটাই লক্ষ্য থাকে, কোরবানির হাটে তা বিক্রি করে বড় অঙ্কের আয় করে নেয়া। এ প্রবণতা বেড়েছে ভারত থেকে পশু আমদানি বন্ধ হওয়ায়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে না এলেও চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রতিবেশী দেশ থেকে বানের পানির মতো পশু ঢুকতে থাকে। ফলে দেশীয় উৎপাদকরা লোকসানে পড়েন। এবারও এই আশঙ্কা রয়েছে। পশু কোরবানি আমাদের অর্থনীতির জন্য দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ঈদ ঘিরে অর্থনৈতিক লাভালাভের সবটুকু আমাদের ঘরে উঠবে। অর্থনৈতিক লাভালাভের এই সুযোগকে সরকারের প্রণোদনা দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।