দুদক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, চিরকুটে হত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর বাগবাড়ি এলাকার এতিম স্কুল রোডে অবস্থিত দুদক ব্যারাক থেকে এসআই লায়েজ উদ্দিন (৫৩) নামের এক দুদক কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত লায়েজ উদ্দিন বাগবাড়ি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যারাকে এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।
রবিবার সকালে পুলিশ ব্যারাকের নিজ কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত কর্মকর্তা গাজিপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বাসিন্দা। সেখানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা থাকতো। ওই কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। এ সংক্রান্ত একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লায়েজ প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণের আবদেন করে না পাওয়ায় মনের দু:খে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন। এদিকে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সকালেই ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করে। খবর পেয়ে লাশ নিতে লায়েজের মেয়ে জামাই এবং বড় ছেলে সিলেটে এসে লাশ বুঝে নিয়েছেন। লায়েজ ব্যারাকে পরিবার ছাড়া একাই থাকতেন। তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে গাজীপুরেই বাস করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গৌছুল হোসেন বলেন, গতকাল রবিবার সকালে নিজ কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লায়েজের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হচ্ছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বিকেলে লায়েজের পরিবারকে খবর দেওয়া হলে ছেলে সিলেটে এসে লাশ বুঝে নিয়েছেন।
ওসি গৌছুল হোসেন আরো জানান, দুদক কর্মকর্তার আত্মহত্যা করার পেছনে প্ররোচণা রয়েছে। মারা যাওয়ার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন। এতে দুদকের উচ্চমান সহকারীকে দায়ী করে লিখেছেন, তিনি ব্রেনস্ট্রোকের রোগী। চিকিৎসার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রভিডেন্ড ফান্ড থেকে কিছু টাকা উত্তোলন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চমান সহকারী সে দরখাস্ত পাঠাননি। যে কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন লায়েজ উদ্দিন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ফয়ছল আহমেদ হিমেল বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।