সঞ্চয়পত্রে সুদ

জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় আছেন মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও পেনশনভোগীরা। দেশে বিনিয়োগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য ক্ষেত্র নেই। ব্যাংকের সঞ্চয় স্কিমে সুদের হার কমেছে আগেই। এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও পেনশনভোগীদের একমাত্র অবলম্বন ছিল সঞ্চয়পত্র। ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রির হার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ সব সময়ের জন্য নিরাপদ। এই নিরাপত্তাবোধ থেকেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হয়। এখন সেখানেও যদি সুদের হার কর্তন করা হয়, তাহলে সমাজের একটি বড় অংশ নিজেদের বঞ্চিত ভাবতে পারে। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও অবসরভোগীদের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস জানার বিষয়ে একটি নীতিমালাও সরকার করতে যাচ্ছে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ শৃঙ্খলায় আনতে অর্থের উৎস জানতে চাওয়া হতে পারে। কিন্তু সুদের হার কর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সমাজের একটি বড় অংশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও অবসরভোগী, যাঁরা সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল, তাঁদের উপার্জনের এই মাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত করা ঠিক হবে না। সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার যেকোনো নীতিমালা করতেই পারে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহ করতে বা বিক্রি কমাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরূপ প্রভাব সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে শৃঙ্খলা আনতে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। নারী, প্রতিবন্ধী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আরো আকর্ষণীয় করার প্রস্তাবও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সঞ্চয়পত্র বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সুদের হারের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ঘটলে সুদের হার বাড়ে আর কমলে সুদ কমে। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ঘটলে তা যে আর কমে না, এ বাস্তবতা কি উপেক্ষা করার উপায় আছে?
সর্বোপরি সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি যদি বিবেচনা করা হয়, তাহলে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা আশা করব, সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।