রমজানকে সামনে রেখে নগরীতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে

স্টাফ রিপোর্টার :
রমজানকে সামনে রেখে নগরীর বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। ব্যবসয়ীরা বললেন রামজানের সময় bazar9-8-07হয়ত নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা হলেও কমে যেতে পারে। তবে চাউল, ডাল, ছোলা, তেল, ফল ও মাংসের বাজারের রমজান আসার আগেই অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।
গতকাল শুক্রবার বিভাগীয় প্রধান নগরীর বন্দরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোলা প্রতি কেজি ৮২ টাকা, চানার ডাল কেজি প্রতি ৩৮ টাকা, মুসরী ডাল ৮৫ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, পেঁয়াজ ২০ টাকা, মুগ ডাল ১২৫ টাকা, চিনি ৬৭ থেকে ৬৮ টাকা, সোয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০৫ টাকা, সরিষার তেল প্রতি লিটার ২৩০ টাকা, মরিচ প্রতি কেজি ২২০ টাকা, ধনিয়া গুঁড়া প্রতি কেজি ২৪২ টাকা, হলুদ গুঁড়া প্রতি কেজি ৩৪৫ টাকা, কেসারী ডাল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা, ও দুধ প্রতি কেজি ৪২৫ টাকা।
ব্রহ্মময়ীবাজারের সাদিক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের প্রোপাইটার সাদিকুর রহমান জানান, গত রমজান থেকে এখন বাজার স্থিতিশীল। আসন্ন রমজানে বলা যাচ্ছে না নিত্যপণ্যের দাম কি হাল দাড়াবে। তিনি বলেন, পাইকারী বাজারের দাম খুরচা বাজারের দামের মধ্যে কেজি প্রতি বর্তমানে ২/৩ টাকা কম।
ফলের বাজারে গিয়ে জানা যায়, আপেল প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, মালটা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, খেজুর কেজি প্রতি ৯০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা পর্যন্ত, আঙ্গুর প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, লেচু’র প্রতি বান্ডিল ২৫০ টাকা, কালো আঙ্গুর প্রতি কেজি ৩৮০ টাকা, আম ১০০ টাকা, নাশপাতি ১৭০ টাকা, পেয়ারা ১০০ টাকা ও ডালিম ২৫০ দরে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বন্দরবাজার হোসাইন ফ্রুট দোকানের প্রোপাইটার সাদেক আহমদ জানান, বর্তমানে খেচুরের দাম বাড়তি। আসন্ন রমজানে দাম বাড়তেও পারে কমতেও পারে বলে জানালেন তিনি।
মুরগীর লাল ডিম প্রতি হালি ২৫ টাকা, হাঁসের ডিম প্রতি হালি ২৮ টাকা, কোয়েলপাখির ডিম প্রতি হালি ১০ টাকা ও দেশী মুরগীর প্রতিহালি ডিম ৩৫ টাকা দরে বাজারের বিক্রি হচ্ছে।
বন্দরবাজার ডিম ব্যবসায়ী আশিক মিয়া জানালেন, আসন্ন রমজানে সব ধরনের ডিমের আমদানী বেশী থাকবে তাই দাম কমে আসবে।
বর্তমানে বয়লার সাদা মুরগীর প্রতিকেজি ১৩৫ টাকা, লাল মুরগী প্রতিপিস ৩৩০ টাকা, কক মুরগী প্রতিটি ১৩০ টাকা, সোনালী মুরগী প্রতিটি ১৫০ টাকা, কবুতর প্রতিহালি ৬০০ টাকা ও কোয়েলপাখি প্রতিহালি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বন্দরবাজার ইত্যাদি পোল্ট্রি দোকানের বেলাল আহমদ জানান, আসন্ন রমজান উপলক্ষে মালের আমদানীর উপর দাম নির্ভর করবে। বর্তমানে রাজধানীতে বয়লার মুরগী প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সিলেট থেকে প্রায় কেজি প্রতি ১৫ টাকা বেশী।
গরুর মাংস প্রতি কেজি হাড্ডিসহ ৪৮০ টাকা, গরুর মাংস হাড্ডি ছাড়া প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, গরুর কলিজি, গোরদা, তিলিসহ প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, গরুর কলিজি প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, খাসি প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, ছাগলের মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা ও ভেড়ার মাংস প্রতি কেজি ৬০০ টাকা।
বন্দরবাজার মেসার্স শুভেচ্ছা মিট হাউসের আব্দুল আহাদ জানান, রমজান মাসে সব ধরের মাংসের দাম কেজি প্রতি বাড়তে পারে কমতেও পারে এখন বলা যাচ্ছে না।
চাউলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন মালা প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, সুপার মালা ৫৫ টাকা, মালা সিদ্ধ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, পাইজং আতব ৫০ টাকা, বোরো প্রতি কেজি ৬২ টাকা, পাইজং সিদ্ধ ৪৮ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ ৫২ টাকা, মিনিকেট আতব প্রতি কেজি ৫২ টাকা, জিরা সিদ্ধ ৫৭ টাকা, নাজির শাইল ৫৪ টাকা, চিনিগুড়া প্রতি কেজি ৭৫ টাকা, কালিজিরা ৭০ টাকা, কাটারি ৫২ টাকা ও কাটারিভোগ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা নতুন চালের সাথে প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত কম।
বন্দরবাজার সিকন্দর আলী এন্ড সন্স এর সত্ত্বাধিকারী আমিরুল ইসলাম জানান, বৈশাখী ফসল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারনে চাউলের বর্তমান দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া বিদেশী চাউল আমদানী হলেও উন্নত মান ভাল থাকে না তাই ক্রেতাদের দেশী চাউলের প্রতি বেশী চাহিদা।