শ্রমিক ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী মুখোমুখি ॥ ছাতকে লাফার্জ গেটে শ্রমিকদের অবস্থান ধর্মঘট

ছাতক থেকে সংবাদদাতা :
মজুরী বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসা ছাতক লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার শতাধিক অস্থায়ী শ্রমিক বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কারখানার প্রধান ফটকে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। আন্দোলনরত এসব শ্রমিকরা তাদের বিভিন্ন দাবি সংক্রান্ত প্লে-কার্ড নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। কারখানা গেটে অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে দুপুর পর্যন্ত র‌্যাব-পুলিশের সদস্যদের কারখানা গেটে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সকালে অন্যান্য বিভাগের শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করার সময় আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে তারা। পরে র‌্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে কারখানার পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠে। দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান করে শ্রমিকরা লাফার্জ গেট ত্যাগ করে চলে যায়। বুধবার রাতে এসব শ্রমিকরা লাফার্জ গেট থেকে নোয়ারাই বাজার পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও নোয়ারাই বাজারে পথসভা করেছে। গত ১ মে থেকে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অধিনে লাফার্জের মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের অস্থায়ী শতাধিক শ্রমিক মজুরী বৃদ্ধি, সরকারী ছুটি, উৎসব বোনাস, ওভার টাইম দ্বিগুনসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসছে। গত ১৪ মে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কর্মবিরতী পালন করা অস্থায়ী শ্রমিক ও কারখানার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকালে কারখানার প্রধান ফটকে  দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষ থানা পুলিশে খবর দেয়। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে উভয় পক্ষকে প্রধান ফটক থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। জানা যায়, ২০০৫ সাল থেকে কারখানার মেকানিক্যাল ও ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের বিভিন্ন সেকশনে ঠিকাদারের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে কাজ করে আসছে কয়েক শ’ শ্রমিক। শ্রমিকদের মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এইচ আর এন্টাপ্রাইজের অধীনে মেকানিক্যাল বিভাগে ৪৫ জন ও শাহজাহান এন্টারপ্রাইজের অধীনে ৬৫ জন কাজ করে আসছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দাবিতে এসব শ্রমিকরা আন্দোলনে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ কাজে যোগদানের জন্য তাদের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করে। এতে শ্রমিকরা তাদের দাবীর প্রতি অটল থেকে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখে। এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে টানা-পূরণের বিষয়টি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুযোগ নিতে পূর্বের নির্ধারিত পারিশ্রমিকেই শ্রমিক সরবরাহ করার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তি করলে বিষয়টি আরো জটিল হয়ে উঠে। এ ঘটনায় শ্রমিকদের পাশাপাশি লাফার্জের স্বার্থ সংশ্লি¬ষ্ট লোকজন পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যে সাদ মিয়া চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন, সাবুল মিয়া, আনোয়ার পাশা, ইউনূছ আলী, সাফাত উল্লাহ, এনামুল হক জানান, কর্মরত শ্রমিকদের দৈনিক পারিশ্রমিক সর্বোচ্চ ৪২০ টাকা থেকে সর্ব নিম্ম ২৩২ টাকা ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব পারিশ্রমিকে তাদের সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পারিশ্রমিক বৃদ্ধিসহ সরকারী ছুটি ও শ্রমিকদের আনুসাঙ্গিক সুবিধা পাওয়ার দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করছে। দাবী পূরণের আশ্বাস দিলেই তারা কাজে যোগদান করবে। কিন্তু লাফার্জ সংশ্লি¬ষ্ট একটি সিন্ডিকেট তাদের উপেক্ষা করে মফিজনগর এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বহিরাগত অদক্ষ শ্রমিক সরবরাহ করে বাড়তি সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। কর্মবিরতী পালন করা শ্রমিকরা বহিরাগতদের প্রতিহত করতে এবং দাবী আদায়ে কারখানার প্রধান ফটকে বার-বার অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে লাফার্জের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইয়ূব জানান, বিষয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। লাফার্জ কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।