পুরাতন সংবাদ: March 16th, 2017

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের গুলিতে নবীগঞ্জের মামা হুজুর নামে এক জঙ্গি নিহত

নবীগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নবীগঞ্জের তাজুল ইসলাম মাহমুদ ওরফে মামা হুজুর নামে (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, মামা হুজুর জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। এ ঘটনায় কসবা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেনসহ বিস্তারিত

কানাইঘাট সুরতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
কানাইঘাট সুরতুন্নেছা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের নির্বাচন নিয়ে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাচনের প্রিসাইডিং অফিসার সুমন আচার্যের কার্যালয়ের স্কুল বিস্তারিত

অগ্নি ঝরা মার্চ

জেড.এম. শামসুল :
অগ্নি ঝরা ১৭ মার্চ। আজকের এই দিনে চট্টগ্রামে আয়োজিত ন্যাপ ভাসানীর এক সভায় মজলুম জননেতা untitled-22_23530মাওলানা  আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এখন আর কোন আপোষের অবকাশ নেই। এ দিন ছিল বিস্তারিত

উম্মাতের বুদ্ধিজীবীদের দায়িত্ব

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান

(পূর্ব প্রকাশের পর)
তৃতীয়ত : বিধানের ফলে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কে সচেতন হওয়া অর্থাৎ সাম্প্রতিক বিষয়ের বিধান নির্ণয়ের পরে যাতে এর সাথে শরঈ কোন দলীলের বৈপরিতা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া।
চতুর্থত : নস অথবা শব্দতত্ত্বের মধ্যে বৈপরিত্যের ক্ষেত্রে এর মধ্যে সমন্বয়, ধারাবাহিকতার পদ্ধতি অবগত হওয়া।
উসূলবিদগণের শর্তানুযায়ী যদি এসবের মধ্যে বৈপরিত্য থাকে তবে সেক্ষেত্রে করণীয়। ১. উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা ২. সমন্বয় সম্ভব না হলে একটিকে অগ্রাধিকার দেয়া ৩. অগ্রাধিকার সম্ভব না হলে ইখতিয়ার প্রদান।
আলিমগণ একমত যে, সুস্থ বিবেক সহীহ বর্ণনামূলক দলীলের বিরোধী নয়। তারপরেও যদি সহীহ বর্ণনার সাথে আকলের সংঘাত হয় সেক্ষেত্রে বর্ণনাকেই গ্রহণ করতে হবে ও আকল পরিত্যাগ করতে হবে। ফিকহী কায়িদার মাধ্যমে বিধান নির্ণয়: ফিকহী কায়িদা মুজতাহিদ, গবেষক ফকীহ, মুফতী, বিচারক ও শাসকের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শরঈ ইলম। ফিক্হী কায়িদার সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে ফকীহগণ দুটি মতামতে বিভক্ত হয়েছেন। প্রথম মত অনুযায়ী এটি এমন এক সামগ্রিক বিষয় যা তার অধীনস্থ বিধান বা অধিকতর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়, সামগ্রিক নয় যা অধিকাংশ শাখার বিধান নির্ণয়ের জন্য প্রয়োগ করা হয়।
দ্বিতীয় মত অনুযায়ী এটি একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধান বা অধিকতর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়, সামগ্রিক নয় বা অধিকাংশ শাখার বিধান নির্ণয়ের জন্য প্রয়োগ করা হয়। ফিকহ ও উসূল মূলত একটি গাছের দুটি শাখা স্বরূপ। একজন ফকীহকে যেমন-উসূলে পারদর্শী হতে হয়, একইভাবে একজন উসূলবিদকে ফিকহে পারদর্শী হতে হয়। তবুও উভয়টি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে উভয় কায়িদার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। ইমাম কারাফী সর্বপ্রথম এ দুই শ্রেণীর কায়িদার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করেন। তিনি তাঁর আল-ফুরুক গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন, মুহাম্মদ (সা.) এর শরীয়ত উসূল ও ফুরু এ দু’টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। আর এ উসূল দু’ভাগে বিভক্ত-
প্রথম: উসূলে ফিকহ যার মধ্যে বিশেষত আরবী শব্দতত্ত্বের ভিত্তিতে উদ্ভাবিত বিধান সমূহের মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: সামগ্রিক ফিকহী কায়িদা, যার মধ্যে শরীয়াতের বিধান প্রবর্তনের গুঢ়রহস্য বর্ণিত হয়েছে। যার কোন কিছুই উসূলে ফিকহে বর্ণিত হয়নি। অতএব বলা যায়, ফিকহী কায়িদা এমন এক বিধান যার অধীনে ফিকহের অসংখ্য গৌণ বিষয় একত্র হয়। আর উসূলের কায়িদা মূলত এমন নীতিমালাকে বলা হয় যা একজন ফকীহকে শরঈ দলীল থেকে বিধান নির্ণয়ের পন্থা বাতলে দেয়।
ফিকহী জাবিত বলা হয় এমন এক সামগ্রিক বিধানকে যা ফিকহের একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার উপর প্রয়োগ করা হয়। “কাহতানী, ড. মুফসির, মানহাজু ইসতিখরাজ, প্রগুক্ত, খ. ২, পৃ. ৪৮৬। উপরিউক্ত সংজ্ঞা থেকেই উভয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয় যে, কায়িদা বা মূলনীতি এমন এক সামগ্রিক বিষয় যা বিভিন্ন অধ্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ের বিভিন্ন মাসআলার ওপর প্রয়োগ করা হয়। পক্ষান্তরে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অধ্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
উদাহরণ (উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে বিধান নির্ধারিত হয়) কায়িদাটি ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায় যেমন- তাহারাত, সালাত, যাকাত, সাওম, নিকাহ, তালাক ইত্যাদি বিষয়ের উপর প্রয়োগ করা যায়। এমনকি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে, এটি সত্তরটি অধ্যায় প্রবিষ্ট হয়। কিন্তু জাবিত শুধু একটি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন-‘মৃতব্যক্তি ব্যতীত যার উপর গোসল ফরজ তার ওপর অযুও ফরয’ এটি শুধু তাহারাতের অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
যে কায়িদাটি প্রয়োগ করা হবে সে কায়িদা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শর্ত বাস্তবে থাকা। কষ্ট বা ক্লেশ বাস্তবেই বর্তমান থাকা। কষ্ট বা ক্লেশ স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া। উক্ত কষ্ট প্রদান শরীয়াত প্রণেতার উদ্দেশ্য না হওয়া। কায়িদাটি প্রয়োগ করলে যেন এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছু ছুটে না যায়।
কায়িদা সংশ্লিষ্ট বিধান তার চেয়ে শক্তিশালী দলীল বা কায়িদা বিরোধী না হওয়া। কিন্তু এটি মাছের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে না। কেননা মৃত মাছ খাওয়ার বৈধতার ব্যাপারে মহানবী (সা.) এ থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যে বিষয়ের বিধান নির্ণয়ের জন্য কায়িদা প্রয়োগ করা হবে বিষয়ে কুরআন সুন্নাহ, ইজমার কোন নস বর্ণিত না থাকা। অন্যান্য কায়েদার ক্ষেত্রে একই ধরণের সতর্কতা নিতে হবে।
যে ব্যক্তিকে ওঈট তে খরভব ঝঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ দিয়ে রাখা হয়েছে তার ব্যাপারে শরঈ বিধান কী হবে? এ সম্পর্কে যে ফিকহী কায়িদা প্রয়োগ করা যায় তাহল, “কৃত্রিম জীবন অস্তিত্বহীনের মত।” একজন রোযাদার এক দেশ থেকে সাহরী করে বিমান যোগে অন্য দেশে গেলেন যেখানে তার ইফতারের সময়ের ব্যবধান কয়েক ঘন্টা। তিনি কখন ইফতার করবেন? মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এর সমাধানে “বাহ্যিক অনুধাবনের ভিত্তিতে বিধান নির্ধারিত হয় অজ্ঞাত বাস্তবতা গ্রাহ্য নয়। এ ফিকহী কায়িদাটি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।
তাখরীজ ফিকহীর সংজ্ঞা তাখরীজ ফিকহীর সংজ্ঞা বর্ণনায় ইবনে ফারহুন মালিকী বলেন, “নসভিত্তিক কোন মাসআলার বিধান থেকে (সাদৃশ্যপূর্ণ) মাসআলার বিধান নির্গমণ। শায়খ আলভী আসসাক্কাফ বলেন, মাযহাবের ফকীহগণ কর্তৃক কোন বিষয়ে তাদের ইমামের বর্ণিত বিধানের অনুরূপ বিধান অন্য বিষয়ের জন্য নির্ধারণ করাকে তাখরীজ ফিকহী বলা হয়। আহমদ ইবনে তাইমিয়া বলেন, “কোন মাসআলার বিধানকে তার অনুরূপ মাসআলার জন্য বহন করা এবং এ বিষয়ে উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যবিধান করা।” এককথায়, মাযহাবের ইমামগণের মতামত ও নীতিমালার আলোকে শরঈ প্রয়োগিক বিধান বা বিধানের নীতিমালা নির্ণয় করাকে ফিকহী তাখরীজ বলে।
কুরআন সুন্নাহ’র নস বর্তমান থাকা অবস্থায় ইমামগণের আলোকে বিধান নির্ণয় না করা। বিধান নির্ণয়কারীকে মাযহাবের নীতিমালা ও তার শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা থাকতে হবে। বিধান নির্ণয়কারীকে ব্যাপকার্থে উসূলে ফিকহ ও বিশেষভাবে কিয়াস বিষয়ে জ্ঞানবান হতে হবে। বিধান নির্ণয়কারীকে মাযহাবী উসূলের সাথে ফুরুয়ের সংযোগ স্থাপন ও উৎস অবগত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে, যাকে উসূলবিদগণ স্বভাবজাত ফকীহ নামে অভিহিত করেছেন। উদ্ভূত বিষয়ের বিধান নির্ণয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধকতা ও ফিকহী শাখা-প্রশাখার পার্থক্য সম্পর্কে দক্ষ হতে হবে। ইমামগণের মতামত যা আলিমগণের নিকট গ্রহণযোগ্য উৎসে বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে বিধান নির্ণয়। ফকীহগণ তাদের তাখরীজের ভিত্তিতে এর বিধান নির্ণয়ের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। একদল গবেষক জুয়ার সাথে তুলনা করে ও গারাবের সাদৃশ্যতার কারণে একে হারাম বলেছেন। অন্যদিকে একদল একে তাবারুর সাথে তুলনা করে বা আকীলা চুক্তির ভিত্তিতে বৈধ বলেছে।
এ আধুনিক বিষয়টির বিধান বর্ণনা করতে যেয়ে বর্তমান যুগের আলিমগণ তাদের তাখরীজের ভিন্নতার কারণে মতভেদ করেছেন। কেউ কেউ গ্রন্থকে উৎপন্নদ্রব্য (চৎড়ফঁপঃ) বিবেচনা করে গ্রন্থস্বত্ব সংরক্ষিত রাখা বৈধ বলেছেন। আবার কেউ কেউ ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান একটি নির্দিষ্ট গন্ডিতে আবদ্ধ হয়ে যায় বিধায় গ্রন্থস্বত্ব সংরক্ষণ বৈধ নয় বলেছেন।
মাকাসিদে শরীআহ’র শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য-এর ভিত্তিতে বিধান নির্ণয়ন মাকাসিদে শরীআহ প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগের আলিমগণের নিকট অতি পরিচিত একটি পরিভাষা। কিন্তু পূর্ববর্তী আলিমগণ এর কোন সংজ্ঞা প্রদান করেননি। এমনকি ইমাম শাতেবীও না, যিনি এ বিষয় সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন। এক কথায় বান্দার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বাস্তবায়নের জন্য শরীয়াত প্রণেতা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণ ও বিশেষ যে উদ্দেশ্য গ্রহণ করেছেন তাকে বলা হয় মাকাসিদে শরীআহ। এ পরিভাষাটি বুঝানোর জন্য অন্যান্য কিছু শব্দও ব্যবহৃত হয়। যেমন- মাসলাহা, হিকমাহ, ইল্লাত ইত্যাদি।
যেসব কল্যাণ সংরক্ষণের জন্য ইসলামী আইন প্রণীত হয়েছে সে দৃষ্টিতে মাকাসিদে তিন প্রকার: ক. অত্যাবশ্যকীয়, খ. প্রয়োজনীয় (পরিপূরক), গ. উন্নতিবাচক। মর্যাদাগত দিক থেকে দুই প্রকার: ক. মৌলিক খ. সম্পূরক ইসলামী বিধান অন্তর্ভুক্তির দিক থেকে তিন প্রকার: ক. সাধারণ উদ্দেশ্য (সামগ্রিক) খ. বিশেষ উদ্দেশ্য (অধ্যায় ভিত্তিক) গ. গৌণ উদ্দেশ্য (নির্দিষ্ট বিষয়)। মাকাসিদে শরীআহ’র ভিত্তিতে বিধান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে করণীয়- প্রথমত: মাকাসিদে শরীআহ’র পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন।
ইমাম শাতিবী শরঈ বিধান উদ্ভাবক বা মুজতাহিদের জন্য দু’টি শর্ত প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দু’টি বৈশিষ্ট্য অর্জন করবেন তিনি ইজতিহাদের যোগ্য হবেন। একটি হল, পূর্ণভাবে মাকাসিদে শরীআহ অনুধাবন এবং অন্যটি হল, উক্ত অনুধাবনের ভিত্তিতে বিধান উদ্ভাবন।
দ্বিতীয়ত: ইস্তিকরা অর্থাৎ শরীয়াতের নস, বিধিবিধান, কারণ (ইল্লাত) ইত্যাদি সম্পর্কে অনুসন্ধান। আদেশ- নিষেধের কারণ। কল্যাণ- অকল্যাণের বিশ্লেষণ।
তৃতীয়ত: মাকাসিদে শরীআহ’র চারটি শর্ত: ক. কল্যাণের বিষয় অকাট্য হবে। এ কারণে পালকপুত্র প্রথা ইসলাম রহিত করেছে। খ. প্রকাশ্যমান হবে। যেমন- বিবাহের উদ্দেশ্য বংশ রক্ষা করা। গ. দু’টি বিষয়কে সংযুক্ত করা হলেও উদ্দেশ্য একটি হতে হবে। যেমন- মদ হারাম হওয়া ও এর সাথে সাথে শাস্তি নির্ধারণ করার উদ্দেশ্য একটিই তা হল, বুদ্ধির সংরক্ষণ। ঘ. ব্যাপক, সামগ্রিক ও শাশ্বত হওয়া।
চতুর্থত: এ কথা অনস্বীকার্য যে, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার কল্যাণেই শরীয়াত প্রবর্তন করেছেন। এই কল্যাণের কাজই হল শরীয়াতের উদ্দেশ্য সংরক্ষণ করা। ইমাম রাযী বলেন, কল্যাণ-অকল্যাণ বিবেচনায় মানুষের কর্মকান্ড ছয় ধরণের হয়ে থাকে- ১. যাতে শুধু কল্যাণ রয়েছে। অকল্যাণ বলতে কিছু নেই। এ কাজটি শরীয়াত সম্মত হওয়া নিশ্চিত। ২. যাতে কল্যাণ-অকল্যাণ উভয়ই রয়েছে। তবে কল্যাণ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। এটিও শরীয়াত সম্মত হওয়া উচিত। কেননা সামান্য অকল্যাণের জন্য অনেক কল্যাণ পরিত্যাগ করা দূষণীয়। ৩. যাতে কল্যাণ- অকল্যাণ সমান। এটি একটি নিরর্থক কাজ। যা শরীয়াত সম্মত না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। ৪. যাতে কল্যাণ- অকল্যাণ কোনটিই নেই। এটিও একটি নিরর্থক কাজ। অতএব তাও শরীয়াত সম্মত হতে পারে না। ৫. এককভাবে অকল্যাণ নিহিত। নিশ্চিতভাবে এটি শরীয়াত সম্মত হবে না। ৬. যাতে কল্যাণ-অকল্যাণ উভয়ই রয়েছে তবে অকল্যাণই অগ্রগণ্য। এটিও শরীয়ত সম্মত না হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা অকল্যাণ দূরীভূত করা আবশ্যক।
১ম, কল্যাণ অত্যাবশ্যক হওয়া। ২য়, কল্যাণ সামগ্রিক হওয়া, গৌণ না হওয়া। ৩য়, কল্যাণ অকাট্য হওয়া, ধারণাপ্রসূত না হওয়া। ইমাম শাতেবী মাসালিহে মুরাসালাহর ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত প্রদান করেছেন-
১. কল্যাণ চিন্তা ও শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করা। শরীয়াতের কোন মূলনীতি বা কোন দলীলের সাথে এটা সাংঘর্ষিক হবে না। ২. সত্তাগতভাবে বিষয়টি জ্ঞান-বিবেকসম্মত হওয়া। কোন জ্ঞানী ব্যক্তির সামনে যখন সেটা উপস্থাপিত হবে তখন সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি যেন তাকে সমর্থন করে। ৩. তা গ্রহণের ক্ষেত্রে শর্ত হল, এর দ্বারা যেন নিশ্চিত কোন সংকটের অবসান হয় এবং যদি এটা গ্রহণ করা না হয় তবে মানুষের চরম সংকটের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পঞ্চমত: মাকাসিদ সংক্রান্ত কায়িদার মূলনীতি ও প্রয়োগ আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের ও অন্যান্য উসূলে ফিকহের গ্রন্থসমূহে মাকাসিদ সংক্রান্ত বিভিন্ন ফিকহী কায়িদা উল্লেখ করা হয়েছে। মাকাসিদের মাধ্যমে সাম্প্রতিক বিষয়ের বিধান নির্ণয়ে আগ্রহী গবেষককে যার প্রতি দৃষ্টি প্রদান করা একান্ত কর্তব্য।
ইসলাম একটি গতিশীল জীবনব্যবস্থা। মানুষের জীবনের নতুন নতুন বিষয়ে ইসলামী বিধান নির্ণয়ের পদ্ধতি তাই এ ব্যবস্থায় বিদ্যমান। মহানবী (সা.) এর সময়ে মহান আল্লাহর কুরআন অবতীর্ণের মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিধান জানিয়ে দিতেন অথবা রাসূল (সা.) নিজ ইজতিহাদের মাধ্যমে তার সমাধান করতেন। কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি সাহাবীগণের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। বর্তমান সময়ে রিসালাতের ধারা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপরোক্ত পদ্ধতিগুলোর অবর্তমানে কীভাবে সাম্প্রতিক বিষয়ের ইসলামী বিধান নির্ণয় করা যায়।
উপরোক্ত তথ্য-উপাত্তের মূল্যায়ন করে আমরা নিম্নোক্ত ফলাফল অর্জন করতে পারি- যুগ পরিক্রমায় মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে ইসলামের গতিশীলতা স্থবির হয় না। যেসব নতুন নতুন আবিষ্কার বা সমস্যার কোন ইসলামী সমাধান নেই তাকে আমরা সাম্প্রতিক বিষয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি। ইসলামের গতিশীল প্রমাণ, মুসলমানদের সমস্যা দূরীকরণ, ইজতিহাদের ধারা চলমান রাখাসহ বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক বিষয়ের ইসলামী বিধান নির্ণয়ের গবেষণা করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বিষয়ের ইসলামী বিধান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একজন গবেষককে গবেষণার পূর্বে বিষয়টি অনুধাবন ও এ সংশ্লিষ্ট খুঁটিনাটি বিষয় এবং জীবনের সাথে এর ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে ভালভাবে অবগত হতে হবে। এ বিষয়ে গবেষণার সময়ে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। শরীআহ অভিযোজন মানুষের নিত্যনতুন সমস্যার সমাধানে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা এর মাধ্যমে মানুষের জন্য অকল্যাণকর নয় এমন বিষয়কে বৈধতা দেয়ার প্রয়াস চালানো হয়। আধুনিক সমস্যার সমাধানের সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি শরঈ দলীল। এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দেয়া হলে অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করার প্রয়োজন হয় না। শরঈ দলীলের ভিত্তিতে আধুনিক বিষয়ের সমাধান না হলে দ্বিতীয়ত আমাদেরকে দৃষ্টি দিতে হবে ফিকহী কায়িদার উপর। ফিকহী কায়িদা মূলত শরঈ দলীল থেকে ফিকহবিদগণের গবেষনালব্ধ নীতিমালা, যা প্রত্যেক যুগের আলিমগণ প্রয়োগ করেছেন। শরঈ দলীল ও ফিকহী কায়িদার অবর্তমানে আধুনিক বিষয়ের বিধান নির্ণয়ের জন্য আমাদেরকে মাযহাবের নীতিমালার আশ্রয় নিতে হবে। মাযহাবের ইমামগণের গবেষণালব্ধ বিধানের সাদৃশ্য বিধান সমজাতীয় বিষয়ের উপর প্রয়োগ করা যেতে পারে। সর্বশেষ আমরা মাকাসিদে শরীআহ’র মাধ্যমে বিধান নির্ণয়ের পন্থা অবলম্বন করতে পারি। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই মাকাসিদ সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়ে গবেষকের পূর্ণ দক্ষতা থাকতে হবে।
লেখক : শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট। (সমাপ্ত)

রোটারিয়ান কামাল উদ্দিন স্মৃতি বৃত্তি প্রদান ১৮ মার্চ

স্টাফ রিপোর্টার :

রোটারী ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রাল আয়োজিত ২১তম রোটারিয়ান কামাল উদ্দিন স্মৃতি বৃত্তি আগামী ১৮ মার্চ, সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে হোটেল স্পাইসি, (লিফটের ৯ম তলা), সিটি সেন্টার, জিন্দাবাজার অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সিলেটের বিস্তারিত

শ্রীমঙ্গলে ইউপি সদস্যকে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকাবস্থায় আটক

মৌলভীবাজার থেকে সংবাদদাতা :
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম রাজা দিন দুপুরে এক নারীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকাবস্থায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
১৫ মার্চ বুধবার দুপুরে শহরতলীর শাহীবাগ এলাকার টিপু মিয়ার বিস্তারিত

চেক ডিজঅনার মামলায় ॥ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারী জাহিদ খান সায়েদ এর ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, দ্বিগুণ টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার :
চেক ডিজঅনার মামলায় এক ব্যক্তিকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও দ্বিগুণ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার (১৫ মার্চ) সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া এ দন্ড প্রদান করেন। বিস্তারিত

রাগীব আলীর ছেলের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ৩০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার :
দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা বাগান দখল করে সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার আসামি রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইয়ের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল বিস্তারিত

ওসমানী বিমানবন্দরে নামলো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

স্টাফ রিপোর্টার :
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি নেমেছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। গতকাল বুIMG_1081ধবার বেলা ৩ টার দিকে ১৪৭ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সরাসরি ওসমানীতে এসে অবতরণ করে। এ সময় ফ্লাইটে বিস্তারিত

হবিগঞ্জে ৪ শিশু হত্যা মামলা ॥ মামলার নথিপত্র সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে

স্টাফ রিপোর্টার :
হবিগঞ্জ  জেলার বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে আলোচিত ৪ শিশু হত্যা মামলার নথিপত্র সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় মামলার নথিপত্র সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পুলিশ প্রহরায় মাধ্যমে আনা হয়। এর বিস্তারিত