বিভাগ: সাহিত্য

রূপান্তর

মিকন কান্তি আমু

দু’চোখের ভাষাতে আজ স্পষ্ট;
এতদিন যা ছিল, সবই ছিল নষ্ট।
নক্ষত্র প্রদক্ষিণে ব্যস্ত ছিল গ্রহ।

শব্দবিহীন ছিল সেই কাছে-আসা,
ছিল না সাথে কোন সাংকেতিক ভাষা।
তবু মোহনার টানে কাছাকাছি থাকা।

নিশীথে কৃত্রিম আলোর পাশে ঘোরে যেমন কীট,
তেমন করে ব্যর্থতার-কুয়াশা এনেছিল শীত;
তবু বসস্তে কোকিল এনেছিল গীত।
ভরা গ্রীষ্মে এসেছিল কালবৈশাখী ঝড়,
বর্ষার সজল চোখেও হৃদয় ছিল অনড়।
শরৎ এনেছিল সাদা কাশফুল;
তবু রঙের তরে ছিল ভীষণ ব্যাকুল।
হেমন্ত দিয়েছিল হিমেল হাওয়া;
দহনের পরে, এই ছিল তার চাওয়া।

শূন্য লতা

কাজী আনিসুল হক

দক্ষিণের জানালা বেয়ে আসবে বাতাস
নদীর জলে করবে খেলা কোজাগরী চাঁদ
ষোড়শী রাতে বরণডালা সাজিয়ে রেখো
চিরসত্য পরমেশ্বর অদ্ভুত প্রেমের ফাঁদ

আপেক্ষিক ভীতি স্মৃতি ক্যানভাস অপেক্ষা ইতি
বাসন্তী শাড়ি লক্ষ্মী চরণে অর্ঘ্য দেবো দেহমনে
শূন্যলতা পূর্ণতা দিতে বৃষ্টি হবে কাশবনে
সৃষ্টি হবে ধরার বুকে সরসিজ প্রেম যৌবনে

বালিকার ঘামার্ত বুকে কামার্ত মুখ গুঁজে
আগামীর স্বপ্ন বুনি; হাজার বছরের ক্লান্তি
তন্দ্রায় ডুবে যাই, হারিয়ে ফেলি অস্তিত্ব
চোখ মেলে স্বস্তি; পরক্ষণে দীর্ঘশ্বাস…

আধোছায়া আড় চোখ লেনদেন যত ইশারা
আকাশ দোলা শুভ্র মেঘ বাঁকা ঠোঁট তিল ছোঁয়া
এলোমেলো পঙক্তিমালা কদম ফুলের গন্ধ ভরা
নতুন জীবন আবার শুরু সবুজ কুঁড়ি শিশির ধোয়া

চন্দ্র

দুলাল চন্দ্র দাস

হে চন্দ্র দেব, তুমি ধন্য,
তোমার স্নিগ্ধ কিরণে মুগ্ধ ত্রিভুবন।
পর্বত বন মুগ্ধ মানবের মন,
নদী সমুদ্র, পশু পাখি জীবগণ।

তোমার কৃপায় রজনীতে
ধরাধামে হয় সুধা বর্ষন,
আবার তোমার বিহনে
ঘোর অন্ধকার হয় এভুবন।

কৃষ্ণ পক্ষে নিশিতে পশু পাখি মানব
ভয়ে ত্রস্ত সকলে থাকে নীরব!
বাড়ে উপদ্রব নিশাচর বিষধর
হিংস্র পিশাচ দৈত্য দানব!
বাড়ে চুরি ডাকাতি খুন খারাপি
মানহানি আর ও কত কী!

জ্যোৎস্না এলে তব দরশনে
আবার আনন্দের বন্যা নামে।

স্বস্তি পায় জীবনে
জ্যোৎস্না রাতে দক্ষিণা পবনে ,
চাঁদ রাতের ভ্রমণে উন্মুক্ত স্থানে,
কী মধুর লাগে দুজনে!

নদী মাঝে মাঝি নৌকা বেয়ে যায়,
কী মধুর গান গায়!
পান্থ বাজায় বাঁশি
শুনে মুগ্ধ হয় গ্রামবাসি!

পূনিমা রাতে বেলজুই রজনীগন্ধা
হাসিমুখে ফোটে,
সৌরভ ছড়ায় চারিদিকে
আনন্দে সুগন্ধে সব মেতে ওঠে!

পৃথিবীর বুকে জোয়ার ছুটে
ভাঁটা নামে তোমার আকর্ষণে,
জলে স্থলে সকল জীবের
আনন্দের ঢেউ বয় তাদের জীবনে।
সকল জীবের সৃষ্টি রহস্য
লুকিয়ে আছে মনের সংগোপনে,
জল বাড়ে জল কমে, আলো আসে
অন্ধকার নামে, তোমার আকর্ষণে।

সুখ-দুঃখ উত্থান পতন
আসে জীবনে,
পৃথিবীব মানুষের
নিজ নিজ কর্ম গুণে।

আমার আল্লাহ

তোফায়েল আহমেদ টুটুল

আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই মাখলুখের,
দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান পরিজ্ঞাতা জগতের।
দয়াময় পরম করুণাময় নিরাপত্তা বিদায়ক,
সমস্ত অধিপতির মহামান্মিত শান্তি সহায়ক।
পরাক্রমশালী শক্তির অধিকারী প্রভু সুবাহান,
মঙ্গল কল্যাণে সৃষ্টির একমাত্র পবিত্র মহান।।

অনন্ত অসীম চিরঞ্জীব নভোমণ্ডল ভূমণ্ডলে,
চন্দ্র সূর্য অস্ত উদয় দিবা রাত্রি ঘটিয়ে চলে।
জন্ম মৃত্যুর নির্ধারিত কাল পৃথিবীতে বাঁচা,
অন্ন রিজিকদাতা সুখ দুঃখের ভাগ্যবিধাতা।
রহমানুর রাহিম রাব্বুল আলামিন মাওলা,
রহমত বরকতে ফুল পাখি ও বৃক্ষের মেলা।।

সৃজনকর্তা উদ্ভাবক গবেষক রক্ষণাবেক্ষক,
সমস্ত প্রশংসার ইবাদত শুধু আল্লাহর হক।
পবিত্র সত্তার শরীক কবিরা গুনাহ শিরক,
পথভ্রষ্ট মুর্খ অজ্ঞানী বুঝেনি কভু আহাম্মক।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ,
ওহেদাহু লাশারীকালাহু আমার আল্লাহ।।

রহস্য-পর্দা

মায়িশা তাসনিম ইসলাম

আজ জানালারা উঠে আসে কোমা থেকে
কারণ শরতের কোলে আশ্রিত অসুস্থ গ্রীষ্মে
ভর করছে ধ্যানত্যাগী অভ্রনয়ন!
কাজলমাখা নীলের চুম্বনে
দালানের দগ্ধ পাপগুলোতে নীলাম্বরীর শয়ন!

মৃত্তিকার বুক ফুঁড়ে বেরোয় গলিত সংবেদ্য,
কামাতুর আকাশ-দেবতা!
সবুজ প্রেমিকাদের অভিসার-তৃষিত শরীর
ভেসে যায়
জলজ উষ্ণতায়!

জানিনা, তোমার মনে আছে কি না
শরীর থেকে সমস্ত বিষাদ পান করে
অমরত্বের ঘ্রাণ নিয়েছিল নশ্বরতা।
কেঁপে উঠেছিল পাথুরে বোধ
অনিরুদ্ধ অক্সিজেনে!
তুমি জিজ্ঞেস করে উঠলে কিছু একটা
যে প্রশ্ন আজো
শতাব্দীর স্পন্দনে জাগায় স্নিগ্ধ প্রলাপ!
উত্তর দেইনি।
শুধু কপোলের উদ্যানে ঝরেছিল
এক ফোটা অশ্রু-শিশির।

আমি বাংলাদেশ

বোরহান বিন শিহাব

একটি দেশের গল্প শোন
বাংলাদেশ তার নাম,
কেউবা করে সম্মান তাহার
কেউবা করে বদনাম।

নয়টি মাসের রক্তক্ষয়ী
যুদ্ধে তাহার জন্ম,
কত মানুষ শহিদ হল
দেশ মাতৃকার জন্য।

মুজিব ভাইয়ে ভাষণ দিয়ে
বলল দেশের ভাই,
ঝাঁপিয়ে পড় যাহা আছে
সাথে নিয়ে তাহাই।

জিয়া আমায় রাতে বলে
রেডিওতে এসে
হানাদারে হামলা করেছে
নেমে পড় যুদ্ধে।

দেশীয় গাদ্দার ছিল হাজার
আমারই ঘরের মাঝে,
মারিয়েছে আমায় ধরিয়ে দিয়ে
ওই জালিমের কাছে।

বুলেটে ঝাঁজরা আমারই সামনে
আমার মায়ের বুক,
বাবা ভাইকে হত্যা করেছে
বোনের ইজ্জত লুট।

বেদনার বোঝা বুকেতে চেপে
যোগদান করেছি যুদ্ধে,
রক্তে জমিন ভেসেছিল কত
মুক্ত করেছি দেশকে।

আমি মুক্ত সফেদ কবুতর
স্বাধীন আকাশে উড়ি,
মুক্তির আনন্দ সবার মাঝে
বিলাতে ভালোবাসি।

পূর্ণতার স্বাদ

অজিত কুমার কর

ক্রন্দনের সুউচ্চ রবে
ভূমিষ্ঠ শিশু এ ভবে
এটাই তো বিধাতার ললাট-লিখন।
তিলে তিলে বেড়ে ওঠা
বাগিচায় পুষ্প ফোটা
সৌরভ ছড়িয়ে পড়ে নন্দনকানন।
জননীর ক্রোড় সে তো শিশুর একার
ওখানে যে আর কারও নাহি অধিকার।

পূর্ণিমার পূর্ণ শশী
মহাশূন্য হতে খসি
ভরে দিল শূন্যস্থান অতীব যতনে।
অধরা দিল যে ধরা
এ ধরিত্রী সসাগরা
কৌমুদী আনন্দধারা বহিল ভুবনে।
তুষ্ট করিল মাত্র এক কণা দিয়া
পূর্ণতার স্বাদ পেল জননীর হিয়া।

বসন্তের দ্বারে চৈত্রের অপেক্ষা

মোজাহারুল ইসলাম চপল

সময় যায় আগের মতো দিন যায় নিজের নিয়মে
হাজার জঞ্জালে প্রহর কাটে বিনিদ্র নেশায়
হৃদয়ের কপাট খুলে জেগে থাকি একা।
ফাল্গুনের দ্বার খুলে বসন্তের আসা যাওয়ার মাঝে
চৈত্রের খা খা দুপুরের অপেক্ষা।

আজ তবে কেনো ফুটেছে শাখায় শাখায় ম্রিয়মান ফুল!
এখানেতো- ভ্রমরহীন গন্ধবিহীন ফুল উষর জীবনে
কখনো কি এখানে জল ছিল, কোনদিন ভালবাসা ছিল?
তবে কেন আজি, হাজারও ফুল?
যারা ছিল প্রেমময় উর্বর হৃদয়ের অধিকারী
তারা কেউ কখনো কি বলেছিল, এই ফুল গন্ধহীন নিষ্প্রাণ।

তুমিতো একদিন পূর্ণিমার রাতের ঝকঝকে খোলা প্রান্তর ছিলে
তবে কেন আজ-বুকের গহীনে মলিন বিরহ চেপে
নৈরাজ্যের খড়গের তলে মাথা রেখে —
মৃত সবুজের বুকে চলেছো একাকী?
এতো অভিমানে কেনো নিজেকে দগ্ধ করছো
কেউকি কখনো বলেছিল তোমায়-ফিরে এসো
উষর জীবনের মায়াময়তায়।

তুমি কি জাননা, তোমার শূন্যতায় এখন শুধুই বেদনার ঘ্রাণ বাড়ে জীবনের পাললিক উঠানে,
যখন মাছের আচিলার মতো গন্ধ বেরুয় মানবতার শরীর থেকে
আজ তবে কেন এতো অভিমান?
তোমার বড্ড প্রয়োজন গন্ধহীন ম্রিয়মান বাগানে।

প্রথমা

রইস উদ্দিন খান

যার শেষ ভালো, সেই ভালো
যে শুরুতে ছিল
তাকে ভুলে গেলো।
যার শেষ ভালো, সেই ভালো !

ওযে, প্রথম চোখে-চোখ রেখে ছিল
হাতটি ধরে ছিল, মুচকি হেসেছিল
তাকে ভুলে গেলো ?

ওযে প্রথম একসাথে পথ চলেছিল
ভবিষ্যতের কথা বলেছিল
এলোমেলো চুল ছুঁয়েছিল
তাকে ভুলে গেল ?
ও যার শেষ ভালো, সেই কি ভালো !

ওযে, প্রথম রাত জাগিয়েছিল
চাঁদ দেখা শিখিয়েছিল
কত স্বপ্ন চোখে এঁকে ছিল
মন তাকে ভুলে গেল ?

ওযে, প্রথম ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে ছিল
আলিঙ্গনে নিয়েছিল
একাকীর ভয় দেখিয়েছিল
তাকে ভুলে গেল?

ওযে, প্রথম হৃদয় ভেঙে ছিল
রক্ত দিয়ে নাম লিখিয়ে ছিল
এ জীবন তুচ্ছ করে দিয়েছিল
মন, তাকে ভুলে গেল।

তবে কি যার শেষ ভালো, সেই ভালো
আর যে শুরুতে ছিল
তাকে ভুলে গেল।

তবু, জোছনা রাতে
বধুর হাতে হাতটি রেখে
কেনও,কেনও প্রথমাকে ভাবো ?
ও যার শেষ ভাল, সেই কি ভালো ?
ওযে প্রথমে ছিল,
তাকে কি কভু হৃদয় ভুলে ছিল !?

তোমার নামে

ড. সুজিতকুমার বিশ্বাস

তোমার নামে কবিতা হয়
তোমার নামেই গান;
তোমার কথায় দুঃখ ভুলি
ভুলে যাই অভিমান।

তুমি আমার হাসির মালা
তুমিই চোখের জল;
তুমি আমার স্বপনসাথি
এ বুকের কোলাহল।

তুমি আমার শূন্য মনে
আপন সুরের দান।
তোমার বুকেতে মাথা রেখে
ভাসাব এ সাম্পান।

তোমার কাছে প্রেম আমার
তোমাতেই চেয়ে থাকা;
আপন গর্তে বারেবারে
তোমাকেই শুধু ডাকা।