বিভাগ: সাহিত্য

পেরেক বিদ্ধ শরীর

আতিক আজিজ

এ বিপন্ন দুপুরে চারদিকে উড়াউড়ি করে শিমুল তুলো
হৃদয়, বীজপত্র ও ধানের শীষ, শূন্য বাড়িঘর, পশুর খোয়াড়।
কয়েক’শ পেরেকবিদ্ধ এ শরীর, টানটান পেশী,
এমনভাবে বসে আছে যেন চুলের ভাজে লুকিয়ে আছে সাপ ও নদী,
এসব বেদনার গোপন রক্তস্রোতে, বিলাস থেকে দূরে
একতারার সুর শোনা যায়, অন্যকিছু শোনা যায় অন্য বুকে,
মুহূর্তে পটভূমি পাল্টে যাওয়া এ সময়, জটিল ভাঁজ
কীটনাশক হৃদয় ঔষধ ও বিজ্ঞাপন।
অস্ত্র ও বর্বরতার আদিম মন্ত্রবলে ভেসে যাচ্ছে আমার প্রফুল¬মালা
গোরাঘাটি, লাটিয়াছাড়া নিলয়, সুতারমুড়া, বংশীবাড়ী
আমার হেঁটে যাওয়া পথ, স্বপ্নকুমারী ও প্রিয় জংলীফুল,
প্রতিদিন পার হওয়া নদী, উঠানে বিছিয়ে রাখা কাঠআলুর
সাদা গুঁড়ো লাল হচ্ছে, ক্রমশ স্বপ্নে গলে পড়ছে
রাবার গাছের ঠুলির ভেতর, জমা হচ্ছে ঠুলির
মতো জংগলের খোড়লের ভেতর।

কবি নিস্তব্ধ নয়

আল-আমিন

নির্বোধ ঘাতকরা কবিতাকে নিস্তব্ধ করার জন্য কবিকে হত্যা করলো।
কবিতা কখনো নিস্তব্ধ হয় না,
কবির মৃত্যু হয় নি,
কবি আজ উত্তোলিত, উদ্ভাসিত।
কবি শিশু কিশোর তরুণ-তরুণীর হৃদয়ে,
কবি বাংলার কবিতায়, বাঙালির চেতনায়।

সেই নির্বোধ ঘাতকরা জানত না,
কবিকে হত্যা করা হলে কবির জন্য পাতায় পাতায় কবিতা লিখা হবে।
কবির জন্য কবিতার পান্ডুলিপি জমা পড়বে প্রকাশনায়।
কবি থাকবেন বাংলার এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে,
হিমালয় থেকে সমুদ্রে,
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের হৃদয়ে।

তিনি কবি, এই কবি ব্যক্তির নয়,
তিনি বাঙালির কবি।
কবির সৃষ্টি কবিতা, কবির সৃষ্টি স্বাধীনতা।
কবির সৃষ্টি সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ।
কবির সৃষ্টি রেসকোর্স ময়দানের সেই কবিতা,
যে কবিতা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিক্ষা দেয়।
যে কবিতা উঁচু কন্ঠে বিশ্বকে জানাতে চায়,
আমি বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা,
বঙ্গবন্ধু আমার নেতা।

আমি কবিকে দেখেনি, কিন্তু কবির কবিতার প্রেমে পড়েছি।
আমি কবি সেই কবিতার আসর রেসকোর্স ময়দান দেখিনি,
কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেখেছি।
কবিতা নিস্তব্ধ হয়না যেমন সত্য,
কবি মৃত্যুকে ভয় পায় না।
তিনি তো সেই কবি, যে কবি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে চিৎকার করে বলেছিল-
“বাঙালি একবার মরে, দু’বার নয়”।
আমি তো সেই কবির কথা বলছি,
যে কবির কথা কিউবার রাষ্ট্রজনক ফিদেল কাস্ট্রো বলেছিলেন-
“আমি হিমালয় দেখিনি, আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি।”
আজ আমি অহংকারী, আমি গর্ব করে বলি,
আমি শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরসূরী।

কিন্তু !
কিন্তু ! কবিকে নিকৃষ্ট ঘাতকরা হত্যা করল,
হত্যা করল সহধর্মীনি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে।
শেখ কামাল, শেখ জামালকে বঞ্চিত করল বাঁচার অধিকার থেকে।
হত্যা করল সেই রাসেলকে!
যে রাসেল বলেছিল- “হাসু আপু,
আমি তোমার আব্বাকে আব্বা বলে ডাকি।”
কিন্তু ! নির্মম সেই দিন।
ইতিহাস রচনা করল কালো অধ্যায়ের,
কবিতা লেখা হলো শোকাবহের।

বঙ্গবন্ধু তুমি মরো নাই,
তোমার মৃত্য নয়, তুমি আমৃত্য।

আগষ্টের কবিতা

জালাল জয়

ভীষণ থেকে ভীষণতর
অসীম থেকে মহান,
স্বপ্ন দেখা, জীবন গড়া
কিভাবে গড়বে, বেঁচে থাকবে লড়াইয়ে
বাঁচতে হলে বাঁচার মত বাঁচো
বলতে হলে বলার মত বলো
এগোতে হলে,চলো এগিয়ে
বীরত্বের বাহন হাতে ॥

আমি বাঙালি, আমি বাঙালি
আমি মানতে পারিনা পরাজয়
মাতৃভূমির তরে, স্বদেশের তরে
নারীত্বের টানে, আমি চলি এগিয়ে

বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী
পরাধীনতা পারি না মানতে
শাসণ-শোষণে পারবে না দমাতে
আমি উজ্জ্বল হয়ে নিভিয়ে দেই
যত আছে অন্ধকার এই পথেঘাটে

তুমি দাঁড়াও, তুমি দাঁড়াও
দুঃখী জনতার পাশে,
সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে
তবেই হবে তুমি শান্ত
তবেই আমি হবো শান্ত…

নটি ছড়া

তা-রে-ক-লি-ম-ন

বেবি তোমায় লাগছে হেব্বি
দুতলা সিস্টেম জুতায়
হট এন সেক্সি বেবি তুমি
চুলে বাঁধা লাল ফিতায়…..

পিংক কালার লিপস্টিকে
মারছে দারুণ ঝলক
তোমায় দেখে পড়ছে না আর
দুটি চোখের পলক.

লাজ শরমের মাথা খেয়ে
হয়েছি বেশ নটি
ইচ্ছে করছে তোমার সাথে
বেঁধে নেই আজ জুটি…

ঘুরে বেড়াই অলিগলি
সিলেট- টু -ঢাকা
হাই স্পিডে চালাই দু’জন
প্রেমের গাড়ির চাকা,

কক্সবাজারের উথাল ঢেউয়ে
এসো কাটি সাঁতার
নয়তো চলো উড়ে আসি
দুবাই কিংবা কাতার,

যেতায় তোমার ইচ্ছে চলো
আমি তাতে রাজি
না-হয় চলো বিয়ে করি
ডেকে এনে কাজি,

তেমার সাথে চলতে আমার
লাগেছে মনে ভয়
বেহায়া মন কখন জানি
নরপশু- না -হয়,

এর কারণেই বলি তোমায়
চলো করি বিয়ে
বিয়ের পরে সাউথ আফ্রিকায়
যাবো তোমায় নিয়ে,

আপাতত আটকাও আমায়
বিয়ে নামের মামলাতে
বেবি তোমার রূপ দেখে আর
পারছিনা লোভ সামলাতে…..।।

স্পর্শহীন প্রণয়

ছাদিকুর রহমান

সেই অনুভূতির অস্তিত্ব থেকে তোমাকে দেখছি
তখন প্রেম কি কেমন কিছুই বুঝতাম না
তবে আমার অনুভূতিতে অদ্ভুত শিহরণ জাগতো
পরে বুঝলাম সেটাই আমার প্রেমের প্রথম শিহরণ
তৃষ্ণার্ত কাকের মত তোমার পদচিহ্ন কত খুঁজেছি
তোমার শরীরের সুবাষিত গন্ধ বাতাসে কত শুঁকেছি
তুমি ছিলে আমার অস্তিত্বের ত্রি-প্রহরের সাথী
এখন তুমি অনেক বড় হয়েছ বয়স বেড়েছে
শরীরের মাংস পিন্ড বড় হয়েছে স্পষ্ট প্রতীয়মান
আমারও তাই…
যৌবনের খেয়ায় দোর্দণ্ড প্রতাপশালী  যাত্রী হয়েছ
একদিন আমি বাতাসে তোমার শরীরের গন্ধ শুঁকতাম
এখন সবাই চায় তোমার কাঁচা মাংসের ঘ্রাণ নিতে
এখন তোমার চারপাশের শত শত পদচিহ্নের ভিড়ে
তোমার পদচিহ্ন মিশিয়ে দিয়েছ প্রাগৈতিহাসিক  নিয়মে।

দেশের মানুষ ডুবছে জলে

সাইয়িদ রফিকুল হক

বানের পানি আল্লাহ দিছে
দিচ্ছো কারে দোষ?
স্বভাব তোদের মন্দ বটে
চিনিস নন্দ ঘোষ।

আল্লাহ-রাসুল মানিস নাতো
মুখেই ধর্মপ্রেম,
পরকালের আশা ছেড়ে
চিনিস শুধু হেম!

দেশের মানুষ ডুবছে জলে
কাটছো তুমি জাবর,
চিনি তোমায় ভণ্ডসাধু
রমিজপুরের বাবর।
লোকদেখানো মানবসেবা
করবে কত আর?
টিভিচ্যানেল গরম করে
ফায়দা লোটো কার?

দেশের মানুষ নয়কো বোকা
তোমায় দিবে ভোট,
লোকদেখানো মানবসেবায়
আর বেঁধো না জোট।

দেশের মানুষ ডুবছে জলে
ছাড় না এবার টিভিচ্যানেল,
লোকদেখানো মানবসেবা
করিস নাতো আঁতেল।

পিরিতের পেতনি ভালো

মোঃ হযরত আলী

হাতের পাঁচটা আঙ্গুল, কোনটা ছোট্ট কোনটা বড়
মায়ের পাঁচটা ছেলে, কোনটা সাদা কোনটা কালো
আমার কাছে বন্ধু তুমি পেতনি হলেও ভালো।

আমি করিনি কোন প্রশ্ন বিবেকের কাছে
খুঁজিনি কোন সার্থ ভালোবাসার মাঝে
দেখিনি কোন লোভিত দৃষ্টিতে
কি রূপ কি যৌবন ভরা আছে।

রূপে কিছু যায় আসে না
যদি গুণে থাকে ভরা
তুমি আমার কালো সোনা, হৃদয় ও কলিজা
ভালোবাসি তাই ভালোবাসি, শতসব কারণ ছাড়া।

তোমার আমার সৃষ্টিকারী শ্রেষ্ঠ করিগর
তার তৈরির সকল কিছুই অপরূপ সুন্দর
তার সৃষ্টির ভুল ধরার সামর্থ্য আছে কার?

জানি ভাবছো তুমি সমাজের কিছু কুচ্ছিত লোকের কথা
যারা মানুষের পিছে খুঁচা দিয়ে পায় খুব মজা
না না না,আর কোন প্রশ্নের সম্মুখি আমি হতে চাই না
ভালোবাসি তাই ভালোবাসি,শতসব কারণ ছাড়া।

গ্রাম আর গ্রাম নেই

শাহিন আলম সরকার

গ্রাম বাংলা নেই ফাঁকা, লোকে ভরপুর।
গোলা ভরা ধান চাল, গেছে বহু দূর।
গোয়াল ঘরের চালা, আছে ভিটে পড়ে।
গরু নেই তার তলে, হাহা ঘর করে।
মাছের আবাদ নেই, শূন্যতা পুকুরে।
সারে ভরা তরকারি, স্বাদ নাহি ধরে।
শহরের মত যেন, হল গ্রামখানি।
মেঠো পথ হল পাঁকা, বিল শূন্য পানি।

রাখালের বাঁশি যেন, বহু দূর ভাসে।
দেখিনি দু’চোখে হায়, শুনে মন হাসে।
চাঁদনি রাতের কোলে, গল্প হত মজা।
বলেছে আমায় দাদি, সে হত যে রাজা।
সেই দিন গুলো হায়, গত হয়ে রয়।
মাঝে মাঝে বৃদ্ধ যেন, একটু জ্বালায়।

সাধক মানবেই সব

শেখ মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক

ঝড়, বৃষ্টি, বাদলে এ পৃথিবী ভরা যে,
তবু বিধি মাঝে মাঝে পরীক্ষা নেয় খরাতে,
বিপদকালে মনের গতি কেমনে দোলে ধরাতে।

দেখে না এসব ভবে মানুষরূপী জানোয়ারে,
অন্যের গ্রাস খাচ্ছে কেড়ে হাসতে হাসতে অনায়েসে,
তাদের তরে শিক্ষা দিতে প্রভু বুঝি শাস্তি দিল সবারে।

স্বার্থান্বেষী মানব সমাজ ধ্বংস করছে বিবেককে,
মনুষ্যত্ব খাচ্ছে কুড়েঁ অহংকারে পড়ে যে,
মানবতা যাচ্ছে উবে জানোয়ারের যাঁতাকলে।

এ যুগে মানুষতো আর মানুষ নয়
তাদের মধ্যেই লুক্কায়িত পশুত্ব রয়,
প্রকৃত মানুষ পাওয়া সাধনার বিষয়।

মানুষ খোঁজলে ক’জন পাবো এই বঙ্গে,
পশুগুলোই মেতে আছে মহারঙ্গে।

মানুষ খোঁজ, মানুষ ভজ, মানুষেতেই সব,
সে ধন পেলে, শূন্যেরও শান্তি-সুখের উঠবে ভীষণ রব।

বড় শালিক

শ.ম. শহীদ

পাতিনেতা জাতি ধরে-
টান দিয়েছেন ইট্টু,
তাতেই দেখেন নিজের জাতে
একের পর এক গিট্টু।

বেচতো কাকা তালের পাখা
বাতাস গায়ে হাকিয়ে,
বড়জেঠা হাত পেতেছেন-
ঠোঁট দু’খানি বাঁকিয়ে।

বাবার ছিলো খাবার দোকান
ভাই-ভায়রা মেছিয়ার,
জুটতো নাকো বেতন তাদের
কতোই হতো বেচি আর!

দাদা খেতেন চাঁদা তুলে-
পীরজঙ্গীর মাজারে,
নানা ক’বার মার খেয়েছেন-
চুরির দায়ে বাজারে!

এপারের মাল ওপার করে
ক’টা টাকার মালিক সে!
তাতেই তিনি ফড়িং থেকে-
ভাবেন বড় শালিক সে।