বিভাগ: সাহিত্য

একটু আশা জাগে

মোঃ আনিছুর রহমান

জীবনে আসে কত নিরাশা!
কত প্রতিকূল অবস্থা!
আসে কত প্রতিবন্ধকতা!
থেমে যাবে জীবন-
যদি না বাঁধি আশা।

ধর্ম,কর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে
রাস্তার মাঝে কাগজ কুড়োই যে,
সামান্য আশা জাগে নাকি তার?
লেখাপড়ার জন্য।
অবশ্যই আশা জাগে তার
মনের মাঝে,
অপারগ সে,
নেমে পড়তে হয় কাজের খোঁজে।

কত ভীড়ের মাঝে!
কত রকমের কাজ!
কেউ বা চাকুরীজীবি,
কেউ বা ব্যবসায়ী,
কেউ আবার কুলিমজুর।
এক মুঠো অন্নের জন্য
হাহাকার চারদিক।

কাকে মেরে কে স্বার্থ যোগায়?
একটু আশা জাগে নাকি তাদের?
একটু বদলাই।
আশা তখনই নিভে যায়
যখন তার ক্ষতি হয়
আপন মানুষ দ্বারা।

একটু আশা জাগে তখনই
জগৎ সংসারে,
যখন সে নিজেই হাল ধরে
নিজ সংসারে,
তার আশাকে জাগ্রত করার জন্য।

জঙ্গিবাদ নির্মূলে জনতার জাগরণ

মোনায়েম সাহিত্য

এবার তো দেখ, জাগছে মানুষ,
থাকবে না আর বসে,
জাগরিত মানুষ এবার
দেবে আঘাত কষে।

কোথায় আছিস জঙ্গিসকল
আয় তো দেখি সামনে,
শেষবারে এক সুযোগ দিলাম
বাবা-মায়ের নাম নে।

ধর্মের নামে যেভাবে করিস
ভ্রষ্ট পথের স্মরণ,
সেই পথেই আসবে জানিস
নরকমুখী মরণ।

আয়রে দেখি, কেমনে করিস
মানুষ মেরে লাশ,
প্রতি আঘাত করবো এবার
হাতে নিলাম বাঁশ।

কোটি লোকের বাঁশের ঘায়ে
মটকাবে ঘাড়, শালা!
প্রাণ বাঁচাতে চাস যদি তোরা
এ দেশ থেকে পালা।

নইলে কিন্তু খবর হবে
দেখবি সর্বনাশ,
অন্যকে লাশ করার আগে
নিজেই হবি লাশ।

নিঠুর বন্ধু

রুনা লায়লা

আমি যখন বান্ধি বাসা
অন্য সুখের নীড়ে,
তখন কেন ডাকিস রে তুই
আকাশের বুক চিরে!

বুক ভেঙে যায় কান্দে হিয়া
অচিন বীণার সুর,
আমারে তুই নিয়ে যাস রে
দূরের থেকে দূর।

কত স্বপ্ন দেখাস রে তুই!
থাকিস তবু দূরে,
স্বপ্ন ডানায় মেঘ উড়ে যায়,
মনটি আমার পুড়ে।

মন ফাগুনে তোরই আশায়
মোহন বাঁশি বাজে
তোরই নামে জীবন তরী
ভাসাই নতুন সাজে।

আকুল আবেদন

অজিত কুমার কর

অবিরল ধারা দিয়ে দূর করো খরা
ওগো তুমি নিরুপম,পুড়ছে যে ধরা।

প্রাণীদের হাহাকার চোখে পড়ে নাকি
উদ্ভিদও কেঁদে মরে প্রাণ যেতে বাকি।

জল নেই কোনোখানে যেন মরুভূমি
কেন এ করাল রূপ বলো প্রভু তুমি।

তোমার কৃপায় চলে বিশ্বচরাচর
তুমি শিব তুমি সত্য করুণানির্ঝর।

প্রাণহীন পৃথিবীর কী যে রূপ হবে
ভেবেছ কি একবার! কেন বসে তবে।

করুণা সাগর থেকে ঢেলে দিয়ো বারি
তা না হলে ঘটে যাবে বড় মহামারি।

আকাশে বিজুরি হাসে কড়কড় বাজ
নদীনালা মাঠঘাট  ভরে যাক আজ।

বাস্তব

মোঃ আনিছুর রহমান

শিশুর খেলার পণ্য নিতে গেলে
শুরুতেই করে কান্না,
বুঝবার স্বার্থ আছে কি এর?
তবুও চায় সে হিরা-পান্না।

কিছু দিতে গেলে কেউ করে না বারণ
নিতে গেলে হায়!না দেওয়ার অজস্র কারণ।
পাগলও বুঝে নিজ-স্বার্থ,কে বুঝে না আর?
এটাই তো বাস্তব!বিশ্ব ঘুরছে বারবার।

সুসময়ে অনেক বন্ধু ফাঁদ পেতে আছে
এমন সময় আসবে তখন কেউ থাকবে না কাছে।
জীবন হলো যুদ্ধক্ষেত্র,কেউ বা মিরজাফর
সংগ্রাম করেও পরাজিত জীবন বরাবর।

ফুটপাতে যার জীবন ইট যেন তার বালিশ
রণবীরের টুকাই করে জুতা পালিশ।
এরাই হতে পারতো দেশের প্রধানমন্ত্রী,রাষ্ট্রপতি
হতে পারতো সচিব, চালাতে পারতো প্রগতি।

কল্পনায় যে উচ্চাভিলাষী বাস্তবে তার করুণ পরিণতি
বাস্তবে চলতে গিয়ে থেমে গেছে তার চলার গতি।
কি যে খেলা খেলছে বিধি? কেউ বুঝে নারে
এটাই তো বাস্তব!এই দুনিয়ার জীবন পারাবারে।

পৃথিবী অসুস্থ আজ

মনোজ ভৌমিক

পৃথিবী অসুস্থ আজ!
হৃদকম্পন বেড়ে ওঠে বারে বারে।

সংকট ঘনিয়েছে দেখ, এ বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডে।
শঙ্কিত তুমি- আমি আর জীব-জন্তু যত
রয়েছে ছড়ায়ে, এ উন্মুক্ত ধরাতে।

মহাপ্রলয়ের আগে যেমন,ইঁদুর বাসা ছাড়ে ভয়েতে
তেমনি আতঙ্ক আজ, ছেয়ে আছে ধরণীর বুকেতে।

বলছে সবাই সমস্বরে,
পৃথিবী পড়েছে আজ গভীর অসুখে!
সবাই জানে, সবাই মানে,
তবু দেয় দোষ, একে অন্য জনে।

পৃথিবী আজ শয্যাশায়ী ভীষণ জ্বরেতে।
ছুটছে সবাই, দুরন্ত গতিতে
ডাক্তার-বদ্যি সব বসেছে ” নাসাতে”।

“রক্ত নেই!” রক্ত নেই!’ তাঁর দেহেতে
বলছে তাঁরাও, যুক্তির ভাষাতে।

তবে কি! রক্তাল্পতা রোগ হয়েছে তাঁর শরীরে!
সে কি ক’রে হয়! আজও দেখি, রক্তের ঝলকানি
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, প্রতি পলে পলে।
এত যদি রক্ত তবে,রক্ত শূন্য হল সে কি ক’রে!

কে বলেছে রক্ত নেই!
আছে রক্ত। দূষিত সে, ভয়ংঙ্কর ‘রক্ত-ক্যান্সারে’
ঊষ্ণায়ণের প্রভাবে।
তবে দিচ্ছ কেন ওরে, পারমানবিক বিকিরণ বারে বারে?
পৃথিবী অসুস্থ আজ, বিশ্ব চরাচরে।
কে দেবে শুদ্ধ রক্ত তাঁরে!
নিরাময় হতে পারে তাঁর রোগ,
যদি সজীবতার ডোজ দাও বারে বারে।

প্রার্থনা

রেজুয়ান চৌধুরী

আমি হবো – প্রভাতের সূর্য্য
রাতের চন্দ্র তাঁরা ;
ভুবন ঘুরিয়া – দেখিবো আমি
কোথায় সর্ব-হারা।

সেথায় আত্মনিয়োগ করিয়া
সর্ব-শক্তি প্রয়োগ করিয়া;
লাগব করিবো – তাদের কষ্ট
খুশিতে হবো আত্মহারা।
আমি হবো – প্রভাতের সূর্য্য
রাতের চন্দ্র তাঁরা।

আজকে আছি – বিলাসিতা নিয়ে
কালকে যে কি হবে !
জবাব-দিহিতা করিতে হবে,
মরণেরও পরে।

তাই, জীবন থাকিতে – বাঁচিবার তরে
নিজেকে দিবো – বিলীন করে ;
এইতো করুণা – খোদার দরবারে
আমি আজ দিশেহারা।
আমি হবো – প্রভাতের সূর্য্য,
রাতের চন্দ্র তাঁরা।

মানুষ আমরা – সৃষ্টির সেরা
আমাদের যে দায়িত্ব আছে ;
সময় থাকিতে – বাকীটা জীবন
লাগাতে পারি কাজে ।

সমাজ-সেবার ব্রত নিয়ে তাই
মনে যেন পাই-সান্ত্বনা ;
রাব্বুল-আলামিনের নিকট ,আজ
আমার এই – প্রার্থনা ॥

রাজার রাজ্য

তানজীল তয়ন

রাজার রাজ্যে কোথায় হয়েছে চুরি।
রাজা তাই ক্ষেপেছেন।
সেনাপতি আর মন্ত্রীদের ডেকে এনে দেপেছেন।

তার রাজ্যে হয়েছে চুরি,
নিয়েছে আবার গম,ডাল,মুড়ি।
চোরের নাম ফুলঝুড়ি।

রাজা করতে যাবে শালিশ,
তাই লাঠি করে নিচ্ছে তৈল মালিশ,
সবার কানা ফিস ফিস।

রাজা এসে বসছে চেপে।
কতক্ষণ পরপর উঠছে ক্ষেপে।
সামলাতে মন্ত্রীরা তাকে ধরছে চেপে।

ফুলঝুড়ি রাজার সামনে এসে দাঁড়ালে।
রাজা লাঠি খানা বাড়িয়ে-দশ ঘা দিয়ে।
নালিশ দিল সেরে।

আমার পৃথিবী দুটো

রীনা বিশ্বাস (হাসি)

আমার পৃথিবী দুটো একটাতে মানুষ
বড় বড় বাড়ি পশু পাখীতে ভরা
সেখানে জন কোলাহল বিবাদ  হিংসা
আগ্রাসী নিতি পাপ-লোভের ডেরা।

আর একটা পৃথিবী আমার নিজের
হাতে গড়া, নিজের সাজান ফুলে গানে
সেখানে কেউ কাঁদেনা মরেওনা–
আনন্দে বসে থাকি সেই লনে।

আমার থেকে সত্যিকারের আমিটা
বেরিয়ে এসে বসে আমার পাশে
আমি বিভোর হই তার অফুরন্ত
মধুর হাসি আর সীমাহীন আশ্বাসে।

আর একজনও যেন কখন ঢুকে যায়
ঠিক আমার আমিটার মতো খালি হাসে
গান গায় পীড়িত ব্যথিত মন ভোলায়
আনন্দে মাতি,আমি,আমার-আমি,আর সে।

সেখানে দুঃখ হাসেনা, সুখ কাঁদেনা, সেই
আগন্তকের ভয়ে, আগুন্তক রাগী নয়
সবসময় হাসে আমার আমির মতো;
তবু দুঃখ বেদনারা ওকে দেখে পায় ভয়।

ওকে স্পর্শ করতেও পারেনা শোক দুঃখরা
যদি বলি তুমি কে? ঠিক করে বলো তো–
সে  হাসে আর বলে “তোমাকে মিষ্টি ছোঁয়া
দিয়ে যাই- গভীর নয়, আ ল তো ।“

তুমি বলেছিলে

শোয়াইব শাওন

তুমি বলেছিলে ভুলে যাবে
সমুদ্রের উদ্বেলিত ঢেউয়ের মতো চোখে
বলে ছিলে,
ভালোবাসার ভস্মীভূত নগরীতে
আজ আবার হাঁটতে ভয় করে
একটুকরো আগুনে আবার না পোড়ে হৃদয়
ভয় করে ভীষণ ভয় করে
মানুষের চেয়ে মানুষের ছায়া
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মানুষ ক্ষুদ্র জীবন
আলোর পিছনে ছায়া না ছায়ার পিছনে আলো
সহজ কথাগুলো মুখে আটকে যায়
কি বলতে কি বলে ফেলি!
তুমি বলেছিলে ফিরে এসো না
আষাঢ়ের ঘন কালো অভিমানে
চলে যাও
তোমার বৃষ্টি ঝরা অভিমান
ঝরবে কি আর,প্রিয়তমা?
আমি মেঘে ঢাকা তারার মতো
নিষ্প্রভ আজ,নিজেকে হারিয়ে
যাযাবর অন্তর, তোমার অস্তিত্বে অস্তিত্বশীল হওয়ার তীব্র বাসনায় বেঁচে নেই যে
তবে আমি জীবন নদীর তীরের পাশে বসে রবো
তুমি চাইলেই আসতে পারো
খেয়া তরী ভাসিয়ে!