বিভাগ: সাহিত্য

সত্যের আঠারো পা

কুমার দীপ

সব চোখই ভুল দ্যাখে। রবীন্দ্রনাথ হলেই যে
বিনোদিনী অকপটে খুলে দেবে হৃদয়ের সবকটি সুর;
জীবনানন্দ হাত পাতলেই হেমন্ত তুলে দেবে
সমুদয় ফসল-সম্ভার – বোকারা ভাবে এভাবে।
মহাবিশ্ব কি শুধু আপেলভাবনা, এত অত্রুুর –
আইনস্টাইন এসে বসলেই মাটিতে লুটোবে!

সংসারে কেউ কেউ অন্তর্দৃষ্ট; অতুল্য বুদ্ধিমতী
অমেয় ক্ষমতাবলে কেউ কেউ জয়ী আজীবন
কারো কারো প্রজ্ঞার রুহে ধরিত্রী শুভ্র; দীপ্তিময়
– তাই বলে এঁরাই শুধু যে জ্যোতিষ্মতী;
এদেরই শুধু চক্ষু আছে; যা দ্যাখেন – তার সব সত্যময়
– এই ভাবনায় পাখনা ওড়ায় মূর্খতর মন।

সত্য একটি বহতা নদী; নানাভাবে বয়ে চলে
কখনো শান্তজলে অঘ্রাণ; অরূপ মনোহর
পলির প্রবাহে – কখনোবা সে-কৃষকের ঘর
অন্ধকারে কারো কারো – অনির্বাণ আলো হয়ে জ্বলে
কখনো বুকভাঙা শ্রাবণের ঢেউ; মত্ত হাতি
সময়ে প্রভাত সূর্য; অসময়ে রাতের ডাকাতি।

অন্যপুরাণ

মেহেদী হাসান

নীরবতা আঁতকে ওঠে ভয়ংকর কোলাহলে
তোমরা ঘুমাও
মৃতের মিছিল পেরিয়ে, জেগে আছে তন্দ্রাহত শহর!

এই পথে, পথের অলক্ষে
হেঁটে গেছে বীতশ্রদ্ধ প্রাণ
এখানে লক্ষাধিক মানুষ
এখানে দশলক্ষ কণা রক্তজবা
এখানে উজ্জ্বল অন্ধকার
এখানেই ঈশ্বর, জবুথবু রাত কাটান সহস্র বছর!

এখানে একিলিস
এখানে ব্রেইসিস
এখানে হেক্টর
একজন শব্দশ্রমিক, অবিশ্রান্ত শান্ত প্রহর!

সকলেই মজ্জায় থাকে না
কেউ কেউ মরীচিকায়;
ধুলোমলিন ভস্মাধার, আগুন জ্বলছে!
এখানে রামরাজ্য
এখানে সীতাকাহিনি
এখানেই কৌলীন্য, মুহুর্মুহু ভাঙছে হৃৎপিন্ড পাঁজর!

এখানে প্রিয়তমা
এখানে কেবলই মানুষ
এখানেই কবিতা
এখানে ভীষণ ক্ষত, কালো অক্ষর!

কাচের পর্দায় ঝুলছে বিজয়ী আর বিজিতের শতাব্দীর ইতিহাস
তোমরা ঘুমাও
কেউ কেউ জেগে থাকে, মৃত্যুর ভেতর!

মুদ্রা

মেহেদী ইকবাল

মুদ্রা, মুর্দাকেও বাঁচিয়ে রাখে। অবিকৃত
রাখে জানি প্রাণহীন নিথর দেহ।
সভ্যতাই বলি, আর বলি ঐতিহ্য
উৎসবে, উপদ্রবে অনিবার্য উপস্থিতি মুদ্রার।

যখন মুদ্রা এলো, সাথে করে নিয়ে এলো
নানা অনুষঙ্গ। সেই থেকে সংঘর্ষের হলো সূত্রপাত
গোত্রে গোত্রে, জাতিতে জাতিতে হানাহানি, রক্তপাত
পতন আর পচনের শুরু হলো সেই থেকে।

তেল বলি আর স্বর্ণ, শস্য, মুদ্রা ছাড়া
যায় কি নেওয়া প্রোটিনের স্বাদ?

মুদ্রার প্রয়োজনে মারণাস্ত্র, দেশে দেশে হেরোইন, আফিমের চাষ
নেটে নেটে পর্নো আর নারীদের খাটো বস্ত্র…

সেও জানি সর্বনাশা মুদ্রার প্রয়োজনে আজ!

কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে

হাবীবুল্লাহ সিরাজী

কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে।
আগুনের তেজ পেলে কঠিনও কোমল হ’তে জানে
হাপরের হাওয়া দেয় পাঁজরের ভাঁজে –
সম্মুখে বসেন পঞ্চানন।

সিসে গলে, নৃত্যের ভঙ্গিতে
ছাঁচে-ছাঁচে নদী জাগে, জাগে বর্ণমালা
ব্যঞ্জনের দুই পার্শ্বে অবিভক্ত স্বর
ভাষার অন্তর …
কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে

স্রোত ভাঙে পাতালের নতুন পাথর
অমাবস্যা ভেঙে চাঁদ শস্য বিলি করে –
কণ্ঠ ফোটে, গন্ধও ফুটতে জানে,
বিকেলের মেঘগুলো সকালের মানে হ’লে
শ্রাবণে অপূর্ব ফোটে রবীন্দ্র-আঙুল
কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে।

শিশুপুত্রের অভিলাষ

ওবায়েদ আকাশ

টেবিল থেকে লাফিয়ে নামছে কবিতার খাতা
আমার শিশুপুত্র কবি হতে চেয়ে বায়না ধরেছে এ-বছর
খাতাটি লাফিয়ে নামছে মাটিতে আর
ছেলেটি তার নিচ দিয়ে অনায়াসে ঢুকতে পেরে
এক অসামান্য খেলায় মেতে উঠেছে

পড়ে যাওয়া খাতার শরীরে হাত দিয়ে দেখি
তপ্ত জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে গা
ছেলেটি মা মা করে কাঁদছে
আর বাবার সংগ্রহ থেকে
একটি একটি ঘুমের পিল বিরামহীন খাইয়ে চলছেন মা

এবং ভোর হতে না হতেই স্নানঘরে ঢুকে
প্রতিটি কবিতার গায়ে অঝোর ধারায় জল ঢেলে দিচ্ছে

পক্তিগুলো আরো জল আরো জল বলে
শরীর থেকে সমস্ত বসন খুলে
নিজেদের গা ছেড়ে দিলো অমৃত ধারায়

এই এক শিশুপুত্র প্রতিদিন একটি-দুটি শব্দ
সারারাত জলে ভিজিয়ে রেখে ভোরবেলা
বাবার হাতে তুলে দিয়ে ভীষণ তৃপ্ত হচ্ছে আজকাল

আমার ঘরভর্তি জ্বরতপ্ত খাতা আর শিশুপুত্রের
ভেজা কোমল শব্দগুলোর ভেতর একপ্রকার
যোগসূত্র নির্ণয় করতে চেয়েছি

বিপরীতে আজকাল তারা আমার নিঝুম উঠোনের
শরীরের উত্তাপ নিয়ে গবেষণাগার ভারি করে তুলছে –

দেশভাগের মানুষ

মাসুদুজ্জামান

আকাশ একটা নীল তুলি হাতে নিয়ে এঁকে চলেছে
মৃত্যু ও বিষাদ
সেই থেকে বিষাদ একটা প্রগাঢ় আয়না
যতই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিজেকে দেখো
আমাদের মুখগুলি সেখানে কাচের মতো স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর

তোমার জ্বলন্ত গ্রীবা মেঘের মধ্যে ম্রিয়মাণ ছিল
কিন্তু সে তুলে আনলো জল
ভালোবাসার হিমশীতল বরফকুচির রক্তাভ সব টুকরো

টুকরোগুলি জোড়া দিতে দিতে আমরা গড়ে তুললাম
একটা দুপুর একটা বাড়ি একটা আয়না
আর তার ভেতরে ফুটে উঠলো আমাদের নদী
জলরঙে আঁকা
ওই নীল নদীটার জন্যেই
মৃত্যু আর সীমান্তের দুপাশে আমাদের বসে থাকা
ধূসর একটা নৌকোয় ভেসে চলা

রুহামা মনি

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

এসেছো ধরণীর বুকে তুমি
আলোকিত করে সব
তোমায় পেয়ে সবে আনন্দিত
আহা কি উৎসব।

মিষ্টি মামণি রুহামা মনি
এত্ত ভালো লাগা
তোমার জন্য মনের মাঝে
কত্ত স্বপ্ন জাগা।

বড় হবে মামনি তুমি
ছড়াবে জ্ঞানের আলো
আলোকিত জ্ঞানী হবে তুমি
মুছবে আঁধার কালো।

তোমায় নিয়ে অনেক আশা
রয়েছে সবার মনে
কষ্ট দু:খ আসেনা যেন
তোমার এই জীবনে।

ফুলের মত হোক তোমার
সুন্দর পবিত্র জীবন
কাটুক তোমার দিবা-নিশি
সুখের মাঝে ক্ষণ।

দুটি ছড়া

তা-রে-ক-লি-ম-ন

যত দেবে
ততই নেবে
বলবেনা কেউ থাম,

আরো নিতে
আরো পেতে
দেবে তোমায় পাম,

যখন তোমার
টাকা থাকে
ভাতিজা কয় চাচায়

টাকা তোমার
ফুরিয়ে গেলে
লাথি মারে পাছায়……।।

চাঁদ

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

চাঁদ যেখানে আমি সেখানে
একি সাথে চলি
চাঁদের পানে তাকিয়ে আমি
ইচ্ছেমতো গল্প বলি।

এত্ত ভালো লাগা আমার
ঐ চাঁদকে নিয়ে
নি:স্বার্থ চাঁদ তাইতো দেখ
দেয় আলো বিলিয়ে।

সবার সাথে পাশেই থাকে
সুখে দু:খে সবসময়
একা হাঁটি চাঁদের আলোতে
পাইনা কোন ভয়।

চাঁদতো আমার বন্ধু হয়েই
পাশে রয়েই আছে
এত্ত বেশি ভালো লাগা
ঐ চাঁদের কাছে।

নি:স্বার্থ বন্ধু আমার হয়ে
এখনো আছে চাঁদ
চাঁদের মাঝে রয়েছে ভালোবাসা
খুব যে নিখাঁদ।

দুটি ছড়া

তা-রে-ক-লি-ম-ন

যত দেবে
ততই নেবে
বলবেনা কেউ থাম,

আরো নিতে
আরো পেতে
দেবে তোমায় পাম,

যখন তোমার
টাকা থাকে
ভাতিজা কয় চাচায়

টাকা তোমার
ফুরিয়ে গেলে
লাথি মারে পাছায়……।।