বিভাগ: সাহিত্য

শেষ হতে শুরু

জাকিয়া সুলতানা

আসিফের কোম্পানিতে আজ একজন নতুন সেক্রেটারি জয়েন করেছে। আগের সেক্রেটারিটা খুবই জ্বালিয়েছে, এরকম বোকা মানুষ আসিফ কখন দেখেনি আর দেখতে চায়ও না। একটা কাজ করতে দিলে আরেকটা করে ফেলে, পরে মহা বিপদেই পরতে হয় আসিফকে। বাবার বয়সী, তাই কিছু বলতেও পারেনা আসিফ। সরাসরি তো কারো চাকরি নট করা যায় না তাই বুদ্ধি করে আসিফ প্রমশন এর নাম দিয়ে তাকে অন্য কাজে বহাল করেছে আপাতত। এবার না জানি কি হয়, নতুন সেক্রেটারি এসে কি তামাশা করে কে জানে।
একটু পর ম্যানেজার আসিফের নতুন সেক্রেটারিকে নিয়ে হাজির হল আসিফের রুম এ। আসিফ একনজর চোখ বুলিয়ে নিয়েই নিজের কাজে আবার মনোযোগ দিল। নতুন সেক্রেটারি একটা কমবয়সী মেয়ে। দেখে মনে হয় সচ্ছল পরিবারের মেয়ে, হয়ত শখের বসে কাজ করেছে।
ম্যানেজারঃ স্যার, আপনার নতুন সেক্রেটারি, ফারজানা নিশি…
ম্যানেজার পরিচয় করিয়ে দিয়ে চলে গেল।
আসিফঃ আপনি এখন থেকে আমার পাশের রুম এ বসবেন, আর আপনাকে কি কি করতে হবে ম্যানেজার সব বুঝিয়ে দিবে, আমি বলে দিব তাকে।
নিশিঃ স্যার আপনি সব টেনশন ঝেড়ে ফেলে দিন। এখন থেকে এসব টেনশন আমার। আপনার রুম ডেকোরেশন থেকে শুরু করে ডেইলি রুটিন , ফাইলপত্র গুছানো, হ্যান্ডেল করা, সব এখন থেকে আমার দায়িত্ব। এখন থেকেই আমি এ দায়িত্ব নিয়ে নিলাম। আপনি রেস্ট নিন। কফি খাবেন স্যার। নিয়ে আসি গরম গরম কফি।
নিশি এক নিঃশ্বাসে সব গুলো কথা গড়গড় করে বলে গেল, মাঝে একবারও থামল না। শুনে আসিফের বুকটা ধক করে উঠল। একদম চেনা পরিচিত কথার ধরন, সেই একই সুর। কি করে সম্ভব। মেয়ো যেন আসিফের সাথে পুরো অধিকার নিয়ে কথাগুলো বলছে। আসিফের পুরানো সেই সৃতি গুলো আবার তাজা হয়ে উঠল। মনে পড়ে গেল সব কথা নতুন করে আবারও। ঠিক এভাবেই তিথি এসছিল একদিন আসিফের লাইফে, ঠিক এমনটাই অধিকার নিয়ে।
আসিফ সেই কল্পনায় হারিয়ে গেল কিছুক্ষণের জন্য………
তিথিঃ এই যে ভাইয়া শুনছো…
আসিফঃ জি…আমাকে বলছেন???
তিথিঃ হ্যাঁ তো। তোমাকেই বলেছি। আমি তোমার এক বছরের জুনিওর। শুনলাম তুমি সবসময় ইকোনমিক্স এ হাইয়েস্ট মার্কস পাও। আমি তো পাই লাড্ডু, কিছুতেই কিছু মাথায় ঢুকে না ঘোড়ার ডিম। তুমি আগামিকাল থেকে আমাকে পড়াবা। কখন পড়াবা সেটা বল। আর তোমাকে তুমি করে বলছি, কারণ তুমি আমার থেকে অনলি এক বছরের সিনিওর, এটা তেমন কোন ডিফারেন্সই না। সো কাল কখন থেকে পড়াবা বল ঝটপট…
স্যার???………আসিফ ডাক শুনে কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে এল।
নিশিঃ স্যার আপনাকে আমি বললাম টেনশন শেষ, আর দেখে তো মনে হচ্ছে আপনি ডাবল টেনশন শুরু করে দিয়েছেন। এখন বলুন তো স্যার আপনার জন্য আমি কি করব। আর স্যার প্লীজ আমাকে তুমি করে বলবেন, নো আপনি। আমি ছোট মানুষ, আমাকে আপনি করে বলে বুড়ি বানিয়ে দিবেন না প্লীজ…………
নিশি একা একাই বকবক করে যাচ্ছে , আর আসিফ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনে যাচ্ছে। অনেকদিন পর আসিফের কারও কথা শুনতে এত ভাল লাগছে। বিরক্ত বোধ করছে না একটুও……
কয়েক মাস পর :
আসিফ নিশির কাজকর্মে পুরোপুরি মুগ্ধ। মেয়েটা কথা বেশি বললেও কাজের বেলায় একদম পারফেক্ট। যেমনটা তিথি ছিল। নিশির সবকিছুই যেন তিথির সাথে মিলে যায়। আসিফের জীবন থেকে তিথি চলে যাওয়ার পর ভেবেছিল ও আর কখনই অন্য কাউকে ভালবাসতে পারবে না। কিন্তু নিশি মেয়েটার প্রেমে না পড়ে পারল না আসিফ। তিথি চলে যাবার পর আসিফ কবে প্রাণ খুলে হেসেছিল বলতে পারবে না। জীবনের সবটাই যেন দুর্বিষহ হয়ে গিয়েছিলো। অফিসের কাজে সারাক্ষণ ডুবে থাকত। লাইফ বলতে কিছুই বাকি ছিল না আসিফের। নিশি মেয়েটা আবারও যেন নতুন করে হাসতে শিখিয়েছে আসিফকে। বাঁচতে শিখিয়েছে , ভালবাসতে শিখিয়েছে আবারও নতুন করে। তবে যেই নিশি আসিফ কে এতটা পরিবর্তন করে দিল সেই নিশি কেই এখন ভালবাসার কথাটা জানানো হয়নি আসিফের। আসিফ ঠিক করল আজই নিশিকে ওর ভালবাসার কথাটা জানাবে। তবে তার আগে আসিফ কে যেতে হবে তিথির কাছে। আগে যে তিথির কাছ থেকে অনুমতি নিবে আসিফ। তারপরই তো জানাবে নিশিকে ওর ভালবাসার কথা………
আসিফ সকাল সকাল রেডি হয়ে বের হয়ে গেল। প্রথমে তিথির কাছে যাবে, তারপর অফিসে গিয়ে নিশি কে পিক করে কথাও বেরাতে যাবে, আর সেখানেই আসিফ নিশি কে ওর মনের কথাগুলো জানাবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আসিফ চলে এলো বনানীতে, তিথির কাছে……
বনানী কবরস্থান, তিথির কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আসিফ। পাঁচ বছর আগে তিথির সাথে যখন চুটিয়ে প্রেম করছিল আসিফ, সেই সময়ের এক ভেলেন্টইন্স ডে তে তিথি জেদ ধরল আসিফকে ও ফুল কিনে দিবে, সবাই যেমন টা দেয়। আসিফ কিছুতেই রাজি না, কারণ ও ভালবাসার জন্য কোন একটা দিনকে সেলিব্রেট করতে রাজি না। আসিফের কাছে ভালবাসার জন্য প্রত্যেকটা দিনই সমান। তবুও তিথিকে আসিফ বুঝাতে পারে না। তিথি নিজের সিদ্ধান্তে অটল, আসিফ কে ফুল কিনে দিবেই দিবে। আসিফ হেরে যায় তিথির জিদের কাছে। আসিফ রাগ করে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে থাকে আর তিথি অন্য পাশে যায় আসিফের জন্য ফুল কেনার জন্য। তিথি ফুল কিনে নিয়ে হাসি মুখে আসিফের কাছে ফিরতে থাকে, ঠিক এমনি সময় একটি মোটর সাইকেল তিথিকে সজরে আঘাত করে। তিথি ছিটকে পড়ে গিয়ে প্রচন্ড আঘাত পায় মাথায়। তিথি আসিফ কে ফুল না দিয়েই চলে যায় না ফেরার দেশে। সাথে সঙ্গী করে নিয়ে যায় আসিফের হাসি, আনন্দ, ভালবাসা, সব…… আজ আসিফ আবারও সব ফিরে পেয়ে তিথিকে সেটা জানাতে এসেছে।
আসিফঃ তিথি…… আমি আবারও বাঁচতে শিখেছি, নতুন করে ভালবাসতে শিখেছি। আর এসব আমাকে নিশি শিখিয়েছে। জান…নিশি না ঠিক তোমার মত করে কথা বলে, তোমার মত করে জিদ ধরে, অভিযোগ করে। ওর মাঝে আমি যেন ঠিক তোমাকেই খুঁজে পাই ।আজ আমি যাচ্ছি নিশিকে আমার ভালবাসার কথা জানাতে……
অফিসে ফিরেই আসিফ প্রথমে নিশির খোঁজ নিল। অবাক কাণ্ড!!! নিশি আজ প্রথম অফিস মিস দিল। অথচ এই মেয়ে গত মাসে ১০৩ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে অফিস করতে চলে এসেছিল। পরে আসিফ জোর করে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। তবে আজ কি হল। আসিফ দ্রুত নিশির মোবাইল এ কল দিল। আশ্চর্য !!! মেয়েটার মোবাইল ও অফ। তাহলে কি কোন সমস্যা হয়েছে। এসব চিন্তা করতে করতে দুপুর হয়ে গেল। লাঞ্চের পর নিশি হন্তদন্ত হয়ে আসিফের রুম এ ঢুকল। নিমিষেই আসিফের সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল, তবে মনের মধ্যে উঁকি দিল নানান প্রশ্ন।
আসিফঃ আজ এত দেরি করলে নিশি? কোন সমস্যা? তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম সারাদিন। তোমার সাথে আজ কিছু জরুরি কথা বলব।
নিশিঃ জরুরি কথা পরে হবে স্যার। আগে এই নিন আমার রেজিগনেশন লেটার। স্যার সরি, আমি আর এ চাকরিটা করতে পারছি না।
আসিফ যেন আকাশ থেকে পড়ল। ভেবে পেল না ও এমন কি অপরাধ করে ফেলেছে যে নিশি আজ চাকরি টা ছেড়ে দিচ্ছে।
আসিফঃ কেন নিশি??? কোন প্রব্লেম হয়েছে কি???
নিশিঃ বিরাট বড় প্রব্লেম স্যার!!!আমার মাথার মধ্যে এখনও আগুন জ্বলছে। সারাটা সকাল আম্মু আব্বুর সাথে ঝগড়া করে এসেছি। শেষমেশ তারাই জিতেছে আর আমি হেরে গেছি। আমি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি স্যার। সরি…
আসিফঃ কিন্তু কেন??? শান্ত হয়ে বসতো নিশি, তারপর সব খুলে বল আমাকে।
নিশিঃ স্যার, আমার এক ছেলের সাথে অনেক আগে থেকেই বিয়ে ঠিক করা ছিল। ছেলে বাহিরে স্যাটেলড। বিরাট অবস্থা ওখানে। বিয়ের পর আমিও ওখানেই চলে যাব। পুর সংসার আমাকেই সামলাতে হবে। সো আব্বু আম্মুর মতে আমাকে এখন চাকরির পিছনে সময় নষ্ট না করে রান্না বান্না আর সংসারের কাজ সেখা উচিত। দুদিন পর যেহেতু আমাকে চাকরীটা ছেড়ে দিয়ে অন্য দেশে পাড়ি জমাতে হবে, তাই এখনি এটা ছেড়ে দিতে উনারা প্রেশার দিচ্ছেন।
আসিফ কি বলবে কিছু ভেবে পেল না। চুপচার নিশির রেজিগনেশন লেটার টা সাইন করে দিল। আর বিদায়ের সময় নিশিকে কংগ্রেচুলেশন জানিয়ে বিদায় দিল।
কিছুদিন পর:
আজ নিশির বিয়ে। সেদিনের পর থেকে নিশির সাথে আর দেখা হয়নি আসিফের। তবে নিশি ওর বিয়ের কার্ড আসিফের অফিসে সময় মত পাঠিয়ে দিয়েছিল। ফোন করেও অনেকবার করে বলে দিয়েছে অবশ্যই যেতে। কিন্তু আসিফ যায়নি। এতটা কষ্ট হয়ত আসিফের সহ্যের বাহিরে। কিছুদিনের মধ্যেই হয়ত নিশি ওর স্বামীর সাথে অন্য দেশে চলে যাবে। নিশির সেই বকবক আর শোনা হবে না আসিফের। নিশিকে আর কখনই বলতে পারবে তার ভালবাসার কথা। তবে আসিফ এবার কষ্টের মধ্যে ডুবে যাবে না। হাসতে ভুলে যাবে না। কারণ নিশি চলে যাওয়ার আগে আসিফকে উপহার হিসেবে দিয়ে গেছে এই হাসি। আসিফ তার হাসির মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে তার ভালবাসাকে, চিরকাল…………

শুভ যাত্রা

বিজু পাল

যাত্রা শুরু করো
হে পথিক
ভুল করে যেও না
এদিক ওদিক
নব যুগের নব সমীরণ,
করবে তোমার—
সুখ শান্তি হরণ।
চেতনার জোয়ারে ভাসাও
প্রাণ,
ছোটো বড়ো সকলকে
দিয়ো সম সম্মান।
অহংকার দিয়ো ছুড়ে ফেলে
সবার মনে নিয়ো জায়গা করে।
শত লাঞ্ছনা পেয়ো।
তবু মানুষকে
মানুষ বলে ভেবো।
যাত্রা শুরু করো,
হে পথিক
ভুল করে যেয়ো না
এদিক ওদিক।

অমোঘ নিয়তি

ওসুমন কবির

চেয়েছিলাম তোমাকে
অনেক বেশী চেয়েছিলাম
নিয়তির কাছে হার মানতেই হলো
চলে গেলে তুমি বহুদূর
হেরে গেলাম আমি।

আজ বর্ণহীন আমার ঘরে
একা একাই থাকি আমি
আমি মেনে নিয়েছি সব
মেনে নিয়েছি আমার নিয়তি
আমার কোন আক্ষেপ নেই।

যাই করিনা আমরা
নিয়তি বলে একটা বিষয় থাকে
সেটা মেনে নিতে হয়
কেউ দ্রুত মানে কেউ দেরীতে
শেষপর্যন্ত মানতেই হয়।

এ কেমন পাখি

সুমিত্র দত্ত রায়

প্রতিদিন সকাল হলেই,
কাঠঠোকরা পাখি আসতো।
জানলার বাইরে বসতো,
ঘাড় দুলিয়ে কি ঠোকাঠুকি!

ঘরের বাইরে বনবাদাড়ে,
বড় বড় সব গাছ ছিল।
সবাই খুব নিশ্চিন্তে ছিল,
তারা পাত্তাই দিত না তাকে।

তারা জানতো ওর জানালা,
অথচ এই আমারও তো –
হৃদয় ছিলো, কল্পনা ছিলো।
ছিলো সেই কাঠঠোকরাও।

যে যার মত দূরে গেলাম,
কিন্তু আজও ঠোকাঠুকির-
আওয়াজ আসে ভেসে ভেসে!
যদিও ঘরে বাধা বিহীন।

মন তরী

আবু মোঃ রাশেদ

ও মন তোর তরীখানায় নে না আমায়  তুলে
জলে অনেক জোয়ার আজ ঋতুহীন সাঝে,
প্রতিকুলে  ছুটতে আজ নেই  রে কোন ভয়
সৃষ্টিলগ্ন থেকেই দেখছি তুই যে চিরঅক্ষয়।

ও মন তোর তরী খানায় নে না আমায়  তুলে
দাড়ি নাইরে মাঝি নাইরে নাইরে কোন পাল,
ঝড়  তুফানও পায়না তরে আদি অনন্ত কাল
শক্ত করে ধররে মন তরী হারায় না যেন হাল।

ও মন তোর তরী খানায় নে  না আমায়  তুলে
বৃষ্টিজলে ভিজবো সুখে আজ পাটাতনে বসি,
আঁধার রাতে মাখবো গায়ে  মিষ্টি  আলো শশী
গাইব গান ছাউনি তলে আজ হয়ে পরম খুশী।

ও  মন তোর তরী খানায়  নে না আমায়  তুলে
দেখবো  চড়ে  জগৎ ঘুরে  নয়ন  দুটি মেলে
চৌদিকের পবন আজ দিক না  যত-ই ভর
পথ হারালেও যাসনে আমায় করিয়া কভু পর ।

স্বপ্নের মিছিলে লাঠিচার্জ

আশরাফ বিল্লাহ্

প্রতিদিন প্রতিক্ষণ ঘটে চলেছে স্বপ্নের মৃত্যু
জীবিত স্বপ্নেরা আছে দুশ্চিন্তায়
আমার কাছে এসেছে বিচার নিয়ে
ভুগছে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ।

না না এভাবে আর চলেনা
এর একটা বিহিত চাই-করতে হবে
রাজনীতিক আমি-বরাবরের মত দেই আশ্বাস
পূরণ করবো প্রতিটি স্বপ্ন-সত্যি হবে সবে ।

লাশেদের ময়নাতদন্তে খুনের প্রমাণ
স্বাভাবিক মৃত্যু নয়,এ যে হত্যা
নাহ আর চুপ থাকা যায় না
এভাবে বিলিয়ে দিতে পারিনা স্বীয় সত্তা ।

স্বপ্নের লাশ কাঁধে নিয়ে স্বপ্নের মিছিল
খুনের প্রতিবাদে সোচ্চার স্বপ্নেরা
প্রশ্ন -এরাতো ছিলোনা অলীক,অযৌক্তিক
কেন তবে এদের এইভাবে মারা ?

মিছিলে লাঠিচার্জ স্বৈরাচারী মস্তিষ্কের
ছত্রভঙ্গে অসহায় স্বপ্নেরা এদিক ওদিক
দাবি তাদের ছিলোনা হাজারটা
শুধু চেয়েছিল বাস্তবায়নের আশ্বাস ঠিক ঠিক ।

উপায়ান্তর না দেখে বৈঠকে বসা
মস্তিষ্ক শান্তি চুক্তির প্রস্তাব দেয়
অপরাধ গুরুতর-শুরুতেই নাকি করেছি ভুল
মধ্যবিত্তের স্বপ্ন রাখতে নেই,এটাই অন্যায় ।

হয়ে গেল মস্তিষ্কের সাথে চুক্তিতে সাক্ষর
আমার স্বপ্নেরা চাইবেনা আর বাস্তবায়নের দাবি
বিজ্ঞ সময় সাক্ষী সবেরই-মুচকি হেসে বলে
স্বপ্নের আর দিস না জন্ম,তবেই সুখি হবি ।

ন্যায়-অন্যায়

বি.এম. পারভেজ রানা

আমি বলিলাম
হবে না এরকম আর ভাই
শুধাইল আমায়
রবে না তোমার ঠাঁই
যেথা চাহ সেথা যাও কেউ দিবে না বাঁধা
শুধু যাওয়ার আগে দিয়ে যাও মোর পাওনা চাঁদা
বলিলাম,
কি করিয়া দেবো আমি ধন-দৌলত তো নাই
বলিল বাবু,
না দিতে পারিলে কি আর করা ভিটেখানি মোর চাই
বাপ দাদার ভিটেখানি কি করিয়া দেবো ভাই
ও যে আমার মরণ কালের মাথা গুঁজাবার ঠাই
এতো কথা জানিনে বাপু কহিল রাগিয়া আমায়
ভিটেখানি লিখে দিয়ে মোরে হও তাড়াতাড়ি বিদায়
বলিলাম বাবু এতো সাধের ভিটেখানি কি করিয়া
দেই তোমায়
না দিলে নাই কি করিয়া জমি লইতে হয় মোর
জানা আছে তার উপায়
ভালোয় ভালোয় দিয়ে দাও বাপু ভিটেখানি লিখে আমায়
নইলে বাপু বাতলাতে হবে অন্য কোন উপায় ।
মরণ ভয়ে লিখে দিলাম ভিটেখানা
প্রতিশোধের আগুন দিচ্ছিল মোরে হানা
বুঝিলাম আজ যদি না থামাই বাবুকে
পরক্ষণে হানা দেবে অন্য কোন বাড়িতে
হাতে চারখানা মশাল লইয়া গেলাম জ্বালিয়া দিতে
গিয়ে দেখি হায়
কে যেন সেথায়
আগুন লাগিয়েছে সারা বাড়িতে
বুঝিলাম আমি ছাড়াও বাবুর ওপরে ছিল অনেকের ক্ষোভ
তাইতো আজি বাবুর দুয়ারে উঠিয়াছে জোর
কলরব
মনে মনে ভাবিলাম আজ তুমি বাঁচিতে বাবু
যদি থাকিতে ন্যায়ের পথে
অন্যায়ের বিচার মানুষ না করিলেও
প্রকৃতি করে পদে পদে ।

প্রাণীজগৎ জুড়ে চিন্তার ছাপ

মুহম্মদ কবীর সরকার

বাপরে বাপ কি যে গরম
বাড়ছে তাপ যায় যে দম
সূর্য একটা আস্ত যম!
বিদ্যুৎ বেটার পড়ে ঠেঁটা
বেড়াতে যায় হরদম।

যখন তখন লোডশেডিং
যারতার সাথে দেয় ডেটিং
এর একটা বিহিত হবে
পাড়া জুড়ে দেয় মিটিং
কোলাব্যাঙে দাবি তোলে
সূর্যের আলো বাড়ছে ভোলে
কমিয়ে দাও তার সেটিং।

পিঁপড়ে বাবু রেগে বলে
বাজে সব সেটিং মিটিং
ফেসবুকেতে দিবো হরতাল
ঠিক করো তো, তার দিন।

তোমরা যদি, না আসো তো
আমরা সংখ্যায় লাখ-কেটি!
আমরাই আমরাই করবো মুক্ত
আমার প্রিয় দেশের মাটি।

চুপ রও যতো নিচু জাতি
ক্ষেপে বলে ঘাসফড়িং,
চলো আগে ভাবতে হবে
কেন এত লোডশেডিং?

কোন প্রাণীটার কারণে ভাই
দিনে দিনে বাড়ছে তাপ?
জগৎ জুড়ে চাপলো বসে
মস্ত বড় চিন্তার ছাপ!

অলীক অনুরাগ

ছাদিকুর রহমান

ভালবাসা সেতো আজব এক জিনিস
যখনই চাতক পাখির মত ছুটে গিয়েছি
যাপটে ধরার নেশায়
ঠিক তখনই হাত ফসকে চলে যায়
স্বপ্নেতে কত বার যে তাকে ধরেছি
কত আড্ড কত কথাই না বলেছি
আদর সোহাগে ভরিয়ে দিয়েছি তার ললাট
ভীষণ একাকিত্বে নিবিড় অলিঙ্গনের আশায়
দু হাত বাড়িয়ে কত খুঁজেছি
কিন্তু বাস্তবে কোনদিন তার অনুভূতি পাইনি
কখনো কড়া নাড়েনি আমার অন্তরের কপাটের
নিদ্রাহীন কত রাতে একটু সঙ্গ পাওয়ার আশায়
সেকি ছটফটানি,অপেক্ষার তৃপ্রহর কেটে যায়
কেউ আসে না এক ফুটো প্রশান্তি নিয়ে
আত্মার সাদ অতৃপ্ত রয়ে যায়।

পবিত্র মাহে রামাজান

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

গুনাহ থেকে মুক্তির মাস
পবিত্র মাহে রামাজান
রহমত বরকত নাজাতের মাস
পবিত্র মাহে রামাজান।

সবার রিযিক বৃদ্ধির মাস
পবিত্র মাহে রামাজান
সত্তর গুণ সওয়াবের মাস
পবিত্র মাহে রামাজান।

জান্নাতের দরজা উন্মুক্তের মাস
পবিত্র মাহে রামাজান
জাহান্নামের দরজা বন্ধের মাস
পবিত্র মাহে রামাজান।

শবে ক্বদরের ভাগ্য রজনী
পবিত্র মাহে রামাজান
কুরআন অবতীর্ণ হবার মাস
পবিত্র মাহে রামাজান।

আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে
পবিত্র মাহে রামাজান
বান্দাদের জন্য বিশেষ উপহার
পবিত্র মাহে রামাজান।