বিভাগ: সম্পাদকীয়

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আবাসন সমস্যা

মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে বাসস্থান। মানুষ বাড়ছে, বাড়ছে তার বাসস্থান তথা আবাসনের চাহিদাও। তবে এই চাহিদা সবচেয়ে বেশি শহরকেন্দ্রিক। একথা সত্য যে, দেশের আবাসন খাতে গত তিন দশকে একটা বিপ্লব ঘটেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ কয়েকটি বড় শহরে এই বিপ্লব চোখে পড়ার মতো। তাই গুরুত্বের বিচারে ক্রমবর্ধমান শহরায়ন ও নাগরিক জীবনে আবাসনই অন্যতম নাগরিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে আলো ছড়ানো এই আবাসনশিল্প ডুবছে নানা সঙ্কটে। উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা। সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ না পাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ কম। ফ্ল্যাট ও জমির রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বেশি হওয়ায় বাড়ছে হতাশা। আবাসনের সহযোগী বা লিঙ্কেজ শিল্পেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে দেশের আবাসন ব্যবসার অবস্থা খুবই নাজুক বলা যায়।
আবাসন খাতের সঙ্কট নিরসনে তেমন কোন পদক্ষেপই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিদ্যুত ও জ্বালানি সঙ্কটসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে প্রায় দেড় দশক ধরে আবাসন খাতে মন্দার প্রভাব প্রকট। ফলে আবাসন খাতের উদ্যোক্তা ও গ্রাহকরা আশার আলো দেখতে পারছেন না। এতে এই খাতে বিনিয়োগ ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। রিহ্যাবের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এক দশকে জিডিপিতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসাসহ আবাসন খাতের অবদান প্রতি বছরই ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০১ সালে যেখানে জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান ছিল জিডিপির ৮.৬৩ ভাগ, সেখানে ২০১০ সালে এসে তা ৭.২০ ভাগে নেমে এসেছে। ২০১০ সালের পর আবাসন খাতের সঙ্কট আরও সঙ্কটাপন্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এ সময়ে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এবং ক্রয়ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বলা হচ্ছে আবাসন খাতে ব্যাংক ঋণে জটিলতা, উচ্চ সুদ হার, গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগে অনিশ্চয়তা, সময়ক্ষেপণ ও নানাবিধ হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা আবাসন খাতের বাজার চাঙ্গা হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায়।
বাংলাদেশে আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। রয়েছে সহায়ক অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। আবাসন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রভাব পড়বে এসব সহায়ক শিল্পে। বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমবে। অর্থনীতির গতি হ্রাস পাবে। এই খাতটিকে সুষ্ঠু নিয়মের মধ্যে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে সমূহ ক্ষতির আশঙ্কা। এতে শুধু বিনিয়োগ বন্ধ হওয়া নয়, আগামী দিনের আবাসন সঙ্কট মোকাবেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই ক্ষেত্রে সরকারকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে। শুধু নীতিমালাই নয়, বিনিয়োগকারী বা ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি ও ঝুঁকি দূর করার বাস্তব উদ্যোগও এই ক্ষেত্রে জরুরী।
ঢাকা শহরের কথাই ধরা যাক, এখানে প্রায় ২ কোটি মানুষের শহরে অপরিকল্পিত ও অপ্রতুল আবাসন ব্যবস্থার কারণে নাগরিক বিড়ম্বনা ও পরিবেশগত সমস্যার ব্যাপকভাবে সৃষ্টি হয়েছে। এসব দূর করে একটি সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তোলায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শহরকেন্দ্রিক আবাসন খাত নিয়ে যেতে হবে গ্রামাঞ্চলেও। গ্রামাঞ্চলে আবাসন খাতে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খুব একটা আগ্রহ নেই। এই ব্যাপারে সরকারের নজর দেয়া দরকার। মনে রাখা দরকার আবাসন খাতের বড় চ্যালেঞ্জ নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আবাসনে অর্থায়ন চাহিদা মেটানো। গ্রামাঞ্চলের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন আইনী কাঠামো নেই। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। সরকার এগিয়ে এলে বেসরকারী উদ্যোক্তারাও এ ব্যাপারে আগ্রহী হবে। দূর হবে আবাসন সঙ্কট।

মানহীন ঔষধে বাজার ভরপুর

ঔষুধের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। জীবনরক্ষাকারী ওষুধ দিন দিন দুর্লভ ও দুর্মূল্য হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও গ্যাস্ট্রিকের ঔষুধের। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে তো বটেই, এমনকি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরাও আজকাল ওষুধ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। গত সপ্তাহে কয়েকটি নামী-দামী গ্রুপের দুই শতাধিক ঔষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে দফায় দফায়। এক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে ১০ থেকে প্রায় ৩শ’ শতাংশ পর্যন্ত। এ অভিযোগ পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের। তাদের মতে, দাম বাড়ানোর আগে বাজারে ঔষুধ সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে কোম্পানিগুলো। এক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই জিম্মি হয়ে পড়ে তাদের নিকট। আরও অভিযোগ আছে, ঔষুধ কোম্পানিগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্তৃপক্ষ তথা ঔষুধ প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই তা করে থাকে। ব্যয়বহুল ও উচ্চাভিলাষী বিপণননীতি ও অধিক মুনাফার আশায় গত কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে ঔষুধের দাম। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ঔষুধ প্রশাসন অধিদফতর এক্ষেত্রে প্রায় নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। অথচ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটা কাম্য নয় কোন অবস্থাতেই।
বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে যে কয়েকটি খাত নিয়ে গর্ববোধ করতে পারে ঔষুধশিল্প তার অন্যতম। বর্তমানে এ শিল্প খাতটি প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চলেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ ঔষুধ উৎপাদিত হয় দেশেই। আরও যা শ্লাঘার বিষয় তা হলো, বিশ্বের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত ঔষুধ রফতানিও হচ্ছে। সম্প্রতি দু’একটি নামী কোম্পানির ঔষুধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য সে দেশের এফডিএ’র অনুমোদনও পেয়েছে। তবে এ কথাও সত্য যে, কয়েকটি নামী-দামী ওষুধ কোম্পানির পাশাপাশি কিছু অখ্যাত কোম্পাানিও আছে, যারা তৈরি করছে মানহীন ওষুধ। কোন কোন কোম্পানির ভেজাল ওষুধ খেয়ে শিশুসহ বয়স্কদের মৃত্যুর অভিযোগও আছে। অভিযুক্ত কোম্পানির মালিকদের জেল-জরিমানাসহ কারখানাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দুঃখজনক হলো, এরপরও মানহীন ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে। মূলত এসব হয়েছে ওষুধের দাম বাড়ার কারণেই।

ওষুধশিল্প একটি স্পর্শকাতর বিষয়। মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্নটি এর সঙ্গে জড়িত ওতপ্রোতভাবে। পাশাপাশি খাদ্য ও পথ্যের বিষয়টিও প্রসঙ্গত উঠতে পারে। ভেজাল খাদ্য যেমন মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে; অনুরূপ ভেজাল ও নকল-মানহীন ওষুধ বিপন্ন করে তুলতে পারে মানুষের জীবনকে। আর তাই ওষুধের মান ও দাম নিয়ে হেলাফেলা তথা শৈথিল্য প্রদর্শনের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। উন্নত বিশ্বে ওষুধের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণ করা হয় কঠোরভাবে। এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এ্যান্ড ড্রাগ এ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ একটি আদর্শ উদাহরণ। বাংলাদেশেও অনুরূপ আদলে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সরকারী সংস্থা গঠন করা যেতে পারে, যারা সর্বদাই ওষুধের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট থাকবে।
ওষুধনীতি অনুযায়ী ১৪০০ জেনেরিক আইটেমের মধ্যে ১২০০ ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ওষুধ কোম্পানিগুলো। মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের দায় সরকার তথা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের। ১৯৯৪ সালের ওষুধনীতিতে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বর্তায় কোম্পানিগুলোর কাছে। আর এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো যথেচ্ছ মুনাফার মনোভাব নিয়ে নানা কারসাজির মাধ্যমে বাড়িয়ে দিচ্ছে ওষুধের দাম। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের বসে থাকার সুযোগ নেই। অতঃপর ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে তারা জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেই প্রত্যাশা।

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু

সিলেট অঞ্চলে অপচিকিৎসা ও ভুল প্রেসক্রিপশনে মৃত্যুর সংখ্যা কম নয়। প্রতিদিনই ২/১টি মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা বা চিকিৎসালয়ের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। চিকিৎসক ও চিকিৎসালয় সাধারণ মানুষের কাছে আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোগে আক্রান্ত জনসাধারণ সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের দারস্থ হয়ে থাকে। কিন্তু নামী-দামি চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপনায় অপ ও ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ঘটে। যা রোগীসহ সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলে।
সরকার যতই চিকিৎসা সেবা প্রদানে সচেষ্ট হচ্ছে। ততই চিকিৎসকরা দায়সারা ভাব দেখাচ্ছেন। নিজের দায় দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত হচ্ছেন। সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকরা জনগণের টাকায় বেতন ও সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও প্রকৃত দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। যা লক্ষণীয়।
গত ১০ ফেব্র“য়ারী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গেল। মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ১০ শিশুসহ ৩২ জন রোগীর মৃত্যু ঘটলো। যা নিয়ে সিলেট অঞ্চলসহ দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিহতদের পক্ষ থেকে শোক হচ্ছে। চিকিৎসকদের খামখেয়ালীপনা ছাড়াও দায়িত্বহীনতার ফলে একসাথে এত মৃত্যু এর আগে এভাবে সিলেট অঞ্চলে ঘটেনি। এ জন্য দায়ী কে?
ওসমানী হাসপাতালে ১০ শিশুসহ ৩২ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দুটো কমিটি গঠনের কথা বললেও বাস্তবে কি কোন তদন্ত হবে না সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার অপকৌশল মাত্র। ইতিমধ্যে সিলেটের সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ছাড়াও অসংখ্য ক্লিনিকগুলোতে অপ ও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নামে শুধু জন আশ্বাস মাত্র। কোন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিচার হয়নি। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুদের স্বজনরা সুবিচার পায়নি।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা আর খাম-খেয়ালীপনার দায়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা কম নয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক ঝামেলা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্কশ মেজাজী ভাব সর্বদা পরিলক্ষিত হয়। দিনের বেলা চিকিৎসকরা ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাথে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাতের বেলা চিকিৎসক বিহীন হাসপাতালগুলোতে রোগীদের আর্তচিৎকার দিলেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া মুসকিল হয়ে পড়ে।
সরকার যতই ঢাক-ঢোল বাজিয়ে চিকিৎসা দেয়ার জন্য উন্নয়নের কথা বলেন না কেন, বাস্তবে অনেক গরমিল রয়েছে। চিকিৎসকদের অতি লোভের কাছে রোগীরা চিকিৎসা পেতে ব্যর্থ। রোগ থেকে মুক্তি পেতে সহায়-সম্বল বিক্রি করে ভুল চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের দ্রুত বিচারের কাঠগাড়ায় আনার বিকল্প নেই।

আর কত মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব

জাতি আর কত মৃত্যু ও প    ঙ্গুত্বের শিকার হবে। জাতি এত মৃত্যু বহন করবে কীভাবে। গত কয়েক বছরের সহিংসতার শিকার মানুষের দিন কাটছে চরম যন্ত্রণায়। বিভীষিকাময় জীবন নিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। বার্ণ হাসপাতালগুলোতে অগ্নিদগ্ধের মানুষের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। এ সব দুর্বৃত্তপনা সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিরোধীদলের ডাকা অবরোধ-হরতালে বিচ্ছিন্নভাবে কতিপয় দুর্বৃত্তরা চলন্ত যানবাহনে গান পাউডার, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে চলেছে। যা কোন বিবেকবান ব্যক্তি মেনে নিতে পারে না। এ সব হত্যাকান্ডের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালগুলোর বার্ণ ইউনিটগুলোর ধারণ ক্ষমতা কম থাকায় অগ্নিদ্বগ্ধ মানুষের সেবা প্রদানে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন।
দেশে অব্যাহত অবরোধ-হরতালে গান পাউডার, পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ও সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ হতাহতের মধ্যে ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী ও শিশুসহ যানবাহনের চালক ও হেলপার রয়েছেন। কর্মসূচীর নামে এসব সাধারণ মানুষের বলি হওয়ার কথা না।
গত ৫ জানুয়ারী থেকে চলমান অবরোধ হরতাল আহবান করে অবরোধ-হরতাল আহবানকারীরা মাঠে না থাকলেও কতিপয় দুর্বৃত্তরা সহিংসতা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। যা সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী কর্মকান্ড। এ হিংসাত্মক কর্মকান্ড রুখতে সকল স্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এলাকা ভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে বিবেকের কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে। এ পর্যন্ত সহিংসতার শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষসহ ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী, অসংখ্য শিশুরা। অবরোধ-হরতালের ফলে সহিংসতায় শিকার হয়েছেন শুধু পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে ৫১ জন, সংঘর্ষে ১৩ জন অন্যান্য ভাবে ২১ জন, যানবাহনে আগুন ও ভাংচুর হয়েছে ৯৮৯টি। রেলে ১১ দফায় নাশকতা চালায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে আগুনে পোড়া ১২৩ জনের আহাজারি কে দেখে ?
অব্যাহত অবরোধ-হরতালের ফলে ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাংলা বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও বাকী বিষয়গুলোর পরীক্ষা অনিশ্চিয়তার মধ্যে। এ বিষয়গুলোর পরীক্ষা যদিও শুধু শনিবারে অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা থাকলেও পরীক্ষার্থীদের তীব্র উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটাতে হচ্ছে।
বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের মতে বিরোধী দলীয় নেত্রীর নিরাপত্তার জন্য ঢাকার গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। অথচ দেশের প্রায় ১৬/১৭ কোটি মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের ১৫ লাখ শিশু কিশোর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জীবন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া কতটুকু যুক্তিসংগত। এতে দেশ প্রেম ও মানব প্রেমের আসল রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
সত্যি কথা দেশের ১৬ কোটি মানুষ ও ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী এ দেশের সন্তান। তাদেরকে আর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে না মেরে অবরোধ-হরতাল বন্ধ করে দেশবাসীর কল্যাণ এগিয়ে আসুন। মানুষের সার্বিক কল্যাণেই আপনার ভবিষ্যৎ জীবন উজ্জ্বল হবে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আতঙ্কিত

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, তেমনি এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম আতঙ্কিত। এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবক মহল দুশ্চিন্তায় ভোগছেন।
বিরোধীদের টানা অবরোধ আর হরতালের ফলে দেশের অর্থনীতির সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়েছে। অবরোধ আর টানা হরতালের কবলে পড়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষার গতিপথে সংকট সৃষ্টি করা হলে একটি জাতি ধ্বংসের পথে এগুতে থাকে। দেশ পুড়লে হিরোদের কিছু আসে যায় না। দেশের কোমলমতি প্রায় ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী হরতাল-অবরোধের কারণে পরীক্ষা দিতে ভয়ভীতিগ্রস্ত এবং বিরোধীদের ডাকা হরতাল অবরোধের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ২ ফেব্র“য়ারীর স্থলে ৪ ফেব্র“য়ারী এসএসসি পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিলেও পরীক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। বিরোধীদলের ডাকা অবরোধের ২৯ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। এ সময়ে সহিংসতার শিকার হচ্ছে অবুঝ শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নিরীহ জনসাধারণ। সহিংসতার শিকার পেট্রোল বোমা আগুনে পুড়ে প্রায় ৫২ জন। সংঘর্ষে ১০ জন অন্যান্যভাবে ১৬ জন ছাড়াও গত ২৯দিনে প্রায় ৮শ’২টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ঘটেছে। এসব সহিংসতার ফলে কোমলমতি শিশুরা আতঙ্কিত। সুস্থ মনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না তাই নিয়ে সচেতন মহল চরম দুশ্চিন্তায় ভোগছেন।
বিরোধদলের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে হরতাল আহবান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য মরণফাঁদ। দেশের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সাথে তাদের অভিভাবক মহল উৎকন্ঠায় আতঙ্কিত। শিক্ষামন্ত্রী বার বার আল্লাহর ওয়াস্তে হরতাল বন্ধ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থাকল্পে অনুরোধ জানালেও কোন কাজ হচ্ছে না। বিরোধী দলের নেতারা কোন কর্ণপাত করছেন না। তারা তাদের হরতাল ও অবরোধের নামে চালাচ্ছেন সহিংস কর্মকান্ড। এসব সহিংস কর্মকান্ডে দেশবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এ সব অপরাজনীতির কারণে শিক্ষা ব্যবস্থাসহ গ্রামীণ অর্থনীতি চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ২ ফেব্র“য়ারীর স্থলে ৪ ফেব্র“য়ারী এসএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ঘোষণা করলেও বিরোধীদল আরো ৭২ ঘন্টার হরতাল ঘোষণা দিয়ে প্রমাণ করছে তাদের অপরাজনীতির মুখোশ। ৪ ফেব্র“য়ারী পরীক্ষা কি শুরু হবে? তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল চরম উদ্বিগ্ন।
দেশবাসীর প্রত্যাশা বিরোধীদল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় অন্ততপক্ষে হরতাল প্রত্যাহার করে ১৫ লাখ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথ চলাকে সুগম করার সুযোগ দিক। এটাই সকলের কাম্য।

জাল টাকার ছড়াছড়ি

দেশে জাল টাকার ছড়াছড়িতে জনসাধারণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভোগছেন। জাল টাকা রোধে উদ্যোগগুলো খুবই নাজুক। ফলে জাল টাকা প্রস্তুতকারীরা সক্রিয় উঠেছে। রমজানের ঈদকে সামনে রেখে এ চক্রের অপতৎপরতা মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়েছে। নোট জালকারী ধরাও পড়েছে। এদের কাছ থেকে জাল নোট তৈরিকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে জনসাধারণের সর্বনাশ ডেকে আনা হবে।
আমাদের দেশে জাল নোট তৈরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। বহু পুরানো ঘটনা। প্রতি বছর কোন ধর্মীয় উৎসবের সময় এ জাল নোট তৈরির ঘটনা ধরা পড়ে। এ সময় অনেক জাল নোট তৈরিকারীকে ধরা হলেও প্রকৃত শাস্তির অভাবে এরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এতে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। প্রতারিত হয় গ্রামীণ সহজ-সরল মানুষ। এ চক্রের সাথে কতিপয় দুষ্কৃতিকারীদের অপকর্মের খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। যা প্রতিরোধে আইনী ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগের অভাবে অহরহ জাল নোটের ছড়াছড়ি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমাদের দেশে যে কোন অপরাধ দমনে আইন থাকলেও বাস্তবে প্রয়োগকারীদের তৎপরতা খুবই কম। যদিও অপরাধী কোন সময়ে ধরা পড়ে যায়, তাকে রক্ষায় আইন প্রয়োগকারীরা অপরাধীদের কৌশলগত ভাবে রেহাই পাওয়ার পথকে সুগম করে দেয়। যদিও আইন প্রয়োগকারীরা জনগণের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকার কথা থাকলেও আইন প্রয়োগকারীর চরম দুর্বলতার কারণে অপরাধীরা আরো সক্রিয় হয়ে তাদের কর্মকান্ড চালায়। যা দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
প্রতি বছর জাল নোট সৃষ্টিকারী চক্রের সদস্য সহ জাল টাকা তৈরির যন্ত্রপাতি এবং এ চক্রের হোতাদেরকে পুলিশ আটক করলেও প্রয়োজনের দন্ডবিধি ও কঠোর আইনী ব্যবস্থার জটিলতার কারণে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়। অপরাধীরা ছাড়া পেয়েই তাদের পুরানো অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। এসব অপরাধীদের সুপথে আনতে প্রয়োজন ধরা পড়া অপরাধীদেরকে কোন একটি কর্মের সৃষ্টি করা। অপরাধীদের জন্য আলাদা কর্মস্থল তৈরি করে কাজে লাগানো। এসব অপরাধীরা বেকারত্বের বোঝায় অতিষ্ঠ হয়ে অপরাধ করতে বাধ্য হয়। কুচক্রি মহলের দ্বারা প্রভাবিত ও অতিলোভে আকৃষ্ট হয়ে অপরাধ করতে যায়। যা ধরা পড়ার পর অনুভব করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ঘটছে। এসব অপরাধীদের গড ফাদার কারা, এদেরকে গ্রেফতার করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এত ভীত কেন ? এদের গ্রেফতার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কি কোন কঠিন ব্যাপার ? প্রশাসন চাইলে এ ধরনের অপরাধ রোধ কোন ব্যাপার নয়। তাই জাল টাকার মত অপরাধ বন্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপের বিকল্প নেই।
দেশে জাল টাকার ফাঁদে সাধারণতঃ গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল মানুষকে এ ধরনের প্রতারণায় জাল থেকে রক্ষায় সরকারি সকল সংস্থা এগিয়ে আসতে হবে। এসব দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষায় সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যাতে জাল টাকা তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে হবে।

শিশু শ্রমের অধিকার

দেশে বিপুল সংখ্যক শিশু বিভিন্ন সেক্টরে অকাতরে শ্রম দিয়ে গেলেও তারা প্রকৃত শ্রমের অধিকার পায় না। যদিও শিশুর অধিকার তার প্রকৃত শ্রমের মর্যাদা পাওয়া। কিন্তু দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও শিশু শ্রম নিষিদ্ধ হলেও শিশু অধিকার আইন প্রয়োগের অভাবে শিশু শ্রমিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু শ্রম বন্ধে অনেক এনজিও সংস্থা সহ দেশীয় অনেক সংস্থা শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করলেও বাস্তবায়নের কোন রূপরেখা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি শিশু শ্রমের প্রকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা আর নিরাপদ বাসস্থানের অধিকার। যা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ও প্রত্যাশা নিয়ে বেড়ে উঠার চেষ্টা করে। কিন্তু ঘটে বিপরীত। অভাব অনটন নিঃস্বতার মধ্যে পড়ে শ্রম বিক্রি করতে হয়। পারিবারিক নিঃস্বতার কারণে অসংখ্য শিশু শ্রমের জন্য ঘর ছাড়তে হয়। এদের মধ্যে পিতা-মাতাহীনই বেশি। যাদের বলা হয় পথশিশু। এসব পথশিশু হোটেল, রেস্তোরাঁয় বয়, রিক্সা-ঠেলাগাড়ী, ভ্যানগাড়ীর হেলপার, পাথর কোয়ারী ছাড়াও ইট খলার শ্রমিক হিসাবে কাজ করে এবং সবাই কিন্তু অভাবের তাড়নায়ই শ্রম বিক্রি করছে। একজন পূর্ণ শ্রমিকের সাথে জোগাড়ী হিসাবে ৮/১০ ঘণ্টা কাজ করেও মজুরী পায় একজন পুরো শ্রমিকের অর্ধেক। আর হোটেল রেস্টুরেন্টে গ্লাস বয় হিসাবে কাজ করেও কোন কোন শিশু শ্রমিক মজুরীর বদলে শুধু খাওয়াটায়ই তার পাওনা কেটে যায়।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শিশুদের অবদান ছিল খুবই বেশি। তারা বিচ্ছু হিসাবে অসাধানকে সাধন করতে পারায় অতি অল্প সময়ে দেশ মুক্ত হতে পেরেছে। শিশুরা নদী সাঁতার কেটে বা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে রাজাকারদের চোখে ফাঁকি দিয়ে দেশের ভেতরে প্রবেশ করে অনেক পাঞ্জাবীর অবস্থান জেনে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে খবর সরবরাহ করত, সে সময় পাঞ্ছাবীরা শিশু দেখলেই বলত এ তো বিচ্ছু হ্যায়। দেশ স্বাধীন হলেও এদেশের পথশিশুদের স্বার্থে পথশিশু কল্যাণ ট্রাষ্ট গঠন করে সকল পথশিশু সহ নিপীড়িত বঞ্চিত শিশুদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলে প্রত্যাশা পূরণ করা।
প্রাথমিক থেকে এসব শিশুরা যথারীতি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে তাদের মেধা সত্যিকারের মানব সমাজ গড়তে সহায়তা করত; যেসব শিশু অল্প বয়সে শ্রম দিয়ে বেড়ে উঠে, তাদের মেধা খুবই ভাল কাজে সহায়তা পাওয়া যায়। উন্নত বিশ্বে শিশু কল্যাণ রাষ্ট্রের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে শিশু শ্রমের অধিকার বাস্তবায়ন করার বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে পথশিশুদের কল্যাণে বড় ধরনের কোন পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে না। ফলে দেশে সর্বত্র শিশু শ্রম দিলেও শ্রমের মর্যাদা যেমন পাচ্ছে না, তেমনি শিশু শ্রম বন্ধ হচ্ছে না। দেশের সকল নিঃস্ব, নিপীড়িত শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর ও কর্মের হাতে রূপান্তরিত করতে প্রয়োজন শিক্ষা। এদেরকে যেভাবে হউক শিক্ষা কেন্দ্রের ব্যবস্থাকল্পে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

চোর-ডাকাতদের দৌরাত্ম্য

সম্প্রতি সিলেট অঞ্চলে চোর-ডাকাতদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণ তীব্র উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ভোগছেন। প্রতিদিন চুরি-ডাকাতির ঘটনায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
নগরী সহ জেলা-উপজেলা ছাড়া গ্রামাঞ্চলে চুরি-ডাকাতির সাথে ছিনতাই, রাহাজানি মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামাঞ্চলে চোর-ডাকাত রোধে রাতের বেলা পাহারা বসাতে হয়েছে। প্রতিনিয়ত ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় গ্রামাঞ্চল সহ সর্বত্র চোর-ডাকাতদের অপতৎপরতা বেড়ে উঠায় সাধারণ জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোন কোন সময়ে চুরি ও ডাকাতির সাথে জড়িত দুর্বৃত্তরা পুলিশের খাঁচায় বন্দী হলেও আইনের ম্যারপ্যাঁচে এসব দুষ্কৃতিকারীরা ছাড়া পেয়ে যায়। এতে জনক্ষোভের শেষ নেই। কোন কোন চোর-ডাকাত হাতেনাতে ধরা পড়লেও এদের প্রয়োজনীয় শাস্তির অভাবে তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পায়।
চোর-ডাকাত জনগণের শত্র“ হলেও এদের বসবাস সাধারণ মানুষের সাথে। এরা সাধারণ মানুষের সাথে বসবাস করলেও এদের অভ্যাস পরিবর্তন হয় না। এদের লোভ-লালসা খুবই বেশি থাকায় তারা মানুষের ধন সম্পদের উপর লোভ করে। এদের মধ্যে অধিকাংশ চোর-ডাকাত কর্মহীন, তাদের পেশাই হচ্ছে চুরি-ডাকাতি। এদের সঠিক কর্মক্ষমতা থাকলেও বদ অভ্যাস ও কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় এদের অপকর্ম করতে হয়। এদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন এদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। যাতে এরা তাদের এ অপকর্ম ত্যাগ করতে পারে।
অনেকের মতে সমাজে এক শ্রেণীর লোভী মানুষ রয়েছে, যাদের বাস্তবে কোন কর্ম নেই। তাদের জীবন অন্য রকম। সন্ত্রাসী কায়দায় চেলাফেরা। অভাবের তাড়নায় চুরি-ডাকাতি করতে দ্বিধা বোধ করে না। তাদের অভ্যাসই হচ্ছে নিজে কোন কর্ম না করে অন্যের ধন সম্পদ জোর করে ভোগ করা। এদের মানসিক স্বভাবে পরিবর্তন আনতে হলে চুরি-ডাকাতির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। যাতে জেল থেকে বের হয়ে এ অপকর্ম করতে সাহস না পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে সমাজে চোর-ডাকাত সংখ্যায় খুবই নগণ্য। এদের বিরুদ্ধে সমষ্টি গতভাবে রুখে দাঁড়ালে এদের অপতৎপরতা রোধ করা সম্ভব হবে। সমাজের ধারাবাহিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সভ্যতার যুগে আসলেও কিছু কুপ্রকৃতিশীল লোভী মানুষের সামাজিক ও মানসিকভাবে পরিবর্তন হয়নি। এসব কুপ্রকৃতিশীলদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনী ভাবে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
সমাজের সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠা করা জনগণের সামাজিক অধিকার। এ সামাজিক অধিকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। সমাজ থেকে অশান্তি দূরীকরণে সকল নাগরিকরা এগিয়ে আসতে হবে। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে চোর-ডাকাত সহ সকল দুষ্কৃতিকারীদের দমন করতে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।

ঈদকে সামনে রেখে দুর্বৃত্তরা বেপরোয়া

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দুর্বৃত্তরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ রাহাজানির ঘটনা ঘটছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা সম্পূর্ণ নির্বিকার। ফলে জনসাধারণ অজানা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।
ঈদকে সামনে রেখে দুর্বৃত্তপনা বৃদ্ধি পেলেও প্রকৃত দুর্বৃত্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব দুর্বৃত্তরা ধরা পড়লে আইনী ম্যারপাঁচের মাধ্যমে বের হয়ে আসে আবার দুর্বৃত্তপনা শুরু করে দেয়। দুর্বৃত্তপনা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ না থাকায় এসব অপকর্ম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে দুর্বৃত্তপনা রোধে নগরীর টার্মিনাল, রেল ষ্টেশন এলাকা, কীন ব্রীজ ও শাহজালাল (রহঃ) ব্রীজ এর উভয় পাশ, বন্দরবাজার, সোবহানীঘাট, নাইওরপুল, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, নয়াসড়ক, জেল রোড, ধোপাদীঘিরপার, তালতলা সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব স্থানগুলোতে প্রতিদিনই ২/১টি অপকর্ম ঘটছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ফুটপাতে অবাধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় দুর্বৃত্তরা এসব ফুটপাতের দোকানগুলোর আশপাশে অবস্থান করে পথচারীদের পকেট চুরি, হাত থেকে মোবাইল নিয়ে দ্রুত পলায়ন করে। এসব ফুটপাতের দোকান ছাড়াও নগরীতে গড়ে উঠা অবৈধভাবে যানবাহন স্ট্যান্ডের যানজট ও জনাকীর্ণ অবস্থায় ওৎপেতে বসে থাকা দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে পথচারীদেরকে ঝাপটে ধরে হাতের মোবাইল ও পকেটের টাকা পয়সা নিয়ে চম্পট দেয়। যাদের ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানপাটের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কোন কোন সময় এসব দুর্বৃত্তরা ধরা পড়লে ফুটপাতের কিছু চিহ্নিত লোক এসে মারপিটের অভিনয় করে দুর্বৃত্তদেরকে ছাড়িয়ে নেয়। এ সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
নগরীতে দুর্বৃত্তপনার জন্য যানজট ও ফুটপাত দখলই বেশির ভাগ দায়ী। এ অবস্থা থেকে পথচারীসহ সাধারণ নাগরিক জীবন রক্ষায় ফুটপাত উদ্ধার ছাড়াও অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা সকল স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে হবে। শহরবাসীর জীবনযাপন ও পথচারীদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া খুবই জরুরী।
বিশেষজ্ঞদের মতে নগরীতে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি পয়েন্ট যানজাট শূন্য সহ ফুটপাত মুক্তকরণ অভিযান চালাতে হবে। যাতে দুর্বৃত্তরা নিরাপদে দাঁড়াতে না পারে। দক্ষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থায় গাফিলতির জন্য যানজট নামক ব্যাধি থেকে মুক্ত হচ্ছে না নগরী তাই সুন্দর ও দুর্বৃত্তপনা মুক্ত নগরী গড়ে তুলতে প্রশাসনের শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া অবৈধ যানবাহন বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। যা সকলের কাম্য।

পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা বালু

Pic-11-07-13-4-cccপ্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সিলেটের নদ-নদী দিয়ে পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা বালুকে প্রক্রিয়াজাতকরণে উদ্যোগী হওয়া খুবই প্রয়োজন।
বর্ষা মৌসুমে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার সহ সিলেট সদরের অসংখ্য নদ-নদীগুলোর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা, মনু, পিয়াইন, জাদুকাটা, খোয়াই, সারি, লোভাছড়া সহ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নদী ছাড়াও ছোট বড় অসংখ্য নালা দিয়ে পাহাড়ী ঢলে নেমে আসে বিপুল পরিমাণ বালু। ফলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, সিলেট সদরের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তা ও কানাইঘাটের পাহাড়ী এলাকা ছাড়াও জকিগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর উৎসমুখ বরাক নদী দিয়ে উন্নত মানের বালু প্রবেশ করে। এ বালুর কারণে অনেক স্থানের বিশাল বিশাল মাঠ অনাবাদী থাকে। এ বিপুল পরিমাণ উন্নত মানের বালুর কোন প্রকার প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ জমিতে কোন প্রকার উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতি বছর পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদী থেকে যায়।
সিলেট অঞ্চলে পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা বালু সাধারণতঃ নদী থেকে উত্তোলন করে সিলেট অঞ্চল সহ দেশের অন্যান্য স্থানে ইমারত নির্মাণ, পাকাকরণ ও সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ফসলি জমি রাশি রাশি বালুকাময় থেকে যায়। এসব ফসলি জমিতে বালু থাকায় কৃষকরা কোন প্রকার উৎপাদনে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে প্রতি শুকনো মৌসুমে বিশাল পরিমাণ জমি অনাবাদি থাকায় জনগণ কোন ফসল উৎপাদনে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিপুল পরিমাণ বালু প্রক্রিয়াকরণে ভূ-তত্ত্ববিদ বা মৃত্তিকা বিভাগ কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা বালু আবৃত জমিতে রবিশস্য উৎপাদনের ব্যবস্থাকরণে উদ্যোগ নেয়া খুবই দরকার। অন্যথায় বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যাবে। এ বিষয়ে ভূ-তত্ত্ববিদসহ মৃত্তিকা বিভাগের উদ্যোগী হতে হবে।
পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ বালু প্রক্রিয়াকরণের উদ্যোগ নেয়া হউক। এটাই সকলের কাম্য।